নতুন প্রধান বিচারপতির আলোচনায় তিন নাম


প্রকাশিত :১২.১১.২০১৭, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে কে নিয়োগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে সকলেরই কৌতূহল রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকেই দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, না আপিল বিভাগের অন্য কাউকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে- তা সকলেই জানতে চান।

আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ছাড়াও প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগের জন্য আরও দু’জন আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বিচারপতি এসকে সিনহা পদত্যাগ করায় শিগগিরই নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে। দ্রুত সময়ে এ নিয়োগ সম্পন্ন হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য থাকতে পারে না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দিয়েও চলবে না। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না হচ্ছে, ততক্ষণ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

নতুন প্রধান বিচারপতি কে হচ্ছেন, সে বিষয় নিয়ে আইন অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগে কর্মে প্রবীণতম হওয়ায় বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেন।

সংবিধানের ৯৬ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি এসকে সিনহা শুক্রবার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে কোনো বিচারপতি পদত্যাগপত্র পাঠাতে পারেন। গতকাল সকালে বিচারপতি সিনহার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে এসে পৌঁছে বলে রাষ্ট্রপতির সচিব গণমাধ্যমকে জানান। এখন প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘পদ শূন্য হয়ে থাকলে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা যতক্ষণ না প্রয়োগ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাজ হবে, কোনো শূন্যতার সৃষ্টি হয়নি।’

জানা গেছে, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তিনি কাকে কখন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন, সে ব্যাপারে বাইরের কারো সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। একজন বিচারপতির সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

এদিকে প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হওয়ার পর পরই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আইন অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আপিল বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করলেও আলোচনায় তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর। বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর অবসরে যাবেন। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন।

এর মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নামটি সবচেয়ে সিনিয়র হিসেবে আলোচনায় আছেন। ২ অক্টোবর বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পরের দিন থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন। আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম এ বিচারপতি ১৯৮৮-৮৯ এবং ১৯৮৯-৯০ সালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক ছিলেন। বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়া ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর ২০০১ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি একই বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা।

আলোচনায় আছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আমলে ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের আলোচনায় আছে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নামও। তিনি ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, বিধি অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির যে কোনো চিঠি বা আবেদন সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাওয়ার কথা। কারণ, একই সঙ্গে ওই চিঠি বা আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রস্তাব ও আইনি বিধান আইন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্নিষ্ট দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেন। প্রধান বিচারপতি তার পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানোর ফলে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পদত্যাগের বিষয়ে অবহিত নন। যে কারণে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন রাষ্ট্রপতি। আর এসব প্রক্রিয়ার কারণে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি দুই-একদিন বিলম্ব হতে পারে।

 

নিজস্ব প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon