প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে আদালতের প্রতি জনগণের আস্থায় সাংঘাতিক ক্ষতি হয়েছে


প্রকাশিত :১৩.১১.২০১৭, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

মিথিলা ফারজানা’র সঞ্চালনায় একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান একাত্তর জার্নালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা’র পদত্যাগ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মুখোমুখি আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ বিচার বিভাগে কোন প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন কি-না?

ড. শাহদীন মালিক: প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ বিচারবিভাগের জন্য দুঃখজনক। সত্য মিথ্যা যাই হোক সারা দেশের লোক মনে করে এর পেছনে সরকারের একটি চাপ ছিল। এটা অবশ্যই নিঃসন্দেহে আদালতের ভাবমূর্তির জন্য, আদালতের প্রতি যে আমাদের আস্থা, জনগণের আস্থা, সেটার জন্য সাংঘাতিক ক্ষতি হয়ে গেছে। এই ক্ষতিটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। আর কাটিয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ হবে জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।

আপনি কেন মনে করেছেন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে বিচার বিভাগের ক্ষতি হয়েছে?

ড. শাহদীন মালিক: সরকারের বিরুদ্ধে একটি রায় লেখায় প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এটা জনমনে শঙ্কার সৃষ্টি করবে। বিচার বিভাগের উপর আস্থার সঙ্কট তৈরি হবে। আমাদের দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি ছিলেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এই প্রথম কোন বিচারপতি থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করতে হল। ঘটনার পরমপরায় আমাদের মধ্যে যে ধারণা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সেচ্ছায় পদত্যাগ করেনি। তাকে চাপের মুখে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বাংলাদেশের বিচারপতি থাকা অবস্থায়, প্রধান বিচারপতি একটি মিলিত ৭বিচারপতি একটি রায় লিখেছিলেন। যা সরকারের ভীষণভাবে অপছন্দ হয়েছিলো। তার কারণে জনগণ মনে করছে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ। বিচার বিভাগের উপর জনগনের আস্থা ছিল। সেটা নিঃসেন্দহে কমে গেছে। এই কমে যাওয়াটাই আমাদের দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গল হয় নাই।

দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা ১১ অভিযোগ এবং সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পর উনার স্বপদে থাকার সুযোগ ছিল কি?

ড. শাহদীন মালিক: বাজারে যা রটে সেটা আইনগতভাবে অভিযোগ না। অভিযোগর প্রথম শর্ত কোন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। আমি কি বলে দিব রাষ্ট্রপতি এই অভিযোগ করেছেন? না সুপ্রিম কোর্ট, না অ্যার্টনী জেনারেল। আমি এটা বুঝলাম না। সাধারণ একটা প্রশ্ন। কারো মনে জাগলো না। বাজারে কারো নামে অভিযোগ উঠলো ধরে নিব সে খারাপ লোক। প্রধান বিচারপতির নামে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তা সুপ্রিম কোর্ট থেকে উঠলে তারা দুর্নীতি দমন কমিশনে গিয়ে বলবে ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু যারা অভিযোগ করছে তারাই আবার বিচার করছে তাহলে আমার কিছু বলার নাই এই বিষয়ে।

ছুটি শেষ হবার আগে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির স্বপদে ফেরার বিষয়ে ‘সুদূরপরাহত’ মন্তব্য করে কি উনাকে (প্রধান বিচারপতি) না ফেরানোর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন?

ড. শাহদীন মালিক: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর রায় নিয়ে সংসদের আলোচনা, অ্যাটর্নি জেনারেল কিংবা আইনমন্ত্রী এই ধরণের মন্তব্য সবকিছু মিলিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চাপ দিয়ে বা পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়েছে বলে জনমনে ধারণা জন্মেছে।

পরবর্তী প্রধান বিচারপতি অর্থাৎ ২২তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সরকার বিলম্ব করেছি কি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি দিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ আছে কি? একইসঙ্গে জানতে চাই প্রধান বিচারপতির পদ কতদিন শূন্য থাকতে পারে?

ড. শাহদীন মালিক: প্রধান বিচারপতির পদ এক-দুইদিনের বেশি শূন্য থাকা কাম্য না এবং বাঞ্ছনীয় নয়। ২১তম প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে বিচার বিভাগ নিয়ে জনমনে আস্থার যে চিড় ধরেছে তা দূর করতে প্রথম কাজ হিসেবে অবিলম্বে নতুন প্রধান বিচারপতি করতে হবে।  আর এটা এমন কোন কঠিন কাজ না যে বাহিরে থেকে কেউকে আনতে হবে। কারণ আমাদের প্রথাগতভাবে প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ বা অবসরে গেলে আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়। এটা কোথাও লেখা না থাকলেও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে এটাই প্রথা। দু’একটা জায়গায় এর ব্যত্যয় ঘটেছে। যেমন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সময় উপরের দুইজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে  উনাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল। কিন্তু এটা ছিল প্রথার ব্যত্যয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ প্রথা ব্যত্যয়ের যৌক্তিকতা দেখছি না।

 

শ্রুতিলিখন ও সম্পাদনা- ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম ডেস্ক



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon