নির্যাতনমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে নারী নির্যাতন কমাতে হবে: সুলতানা কামাল


প্রকাশিত :১৮.১১.২০১৭, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

দেশে দিন দিন বাড়ছে নির্যাতনের ঘটনা। নারী নির্যাতনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাই নারী নির্যাতনকে সবার আগে কমাতে হবে। তা নাহলে নির্যাতন মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ‘আমরাই পারি’ জোটের চেয়ারপার্সন সুলতানা কামাল।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে “নির্যাতনের শিকার নারীদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আইন সহায়তা নিশ্চিতকরণ” বিষয়ক এক সংলাপে তিনি একথা বলেন। আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এই সংলাপের আয়োজন করে। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি) এবং অক্সফামের সহায়তায় “ক্রিয়েটিং স্পেসেস টু টেক অ্যাকশন অন ভায়োলেন্স এগেইন্সট উইমেন অ্যান্ড গার্লস” প্রকল্পের আওতায় আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সুলতানা কামাল বলেন, নিঃশঙ্ক জীবন সব মানুষের অধিকার। নির্যাতনের শিকার মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু দেশে নারী নির্যাতনের হার সবচেয়ে বেশি। সংবিধানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার সমান। এই বিষয়টিকে বিচার বিভাগ, প্রশাসন সহ সকলকে বিশ্বাস করতে হবে। বিচার বিভাগের বিচারকগণের মধ্যে সমান অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর দুর্ভোগ কখনোই কমবে না।

আলোচনায় নারী ভুক্তভোগীদের কথা তুলে ধরে সুলতানা কামাল আরও বলেন, আমরা বিচার চাই, আমরা মাননীয় বিচারপতি ও বিচারকগণের কাছেও নির্যাতনের শিকার নারীদের কথা তুলে ধরছি, আমরা সরকারের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। সর্বপরি আমরা আইনের সুশাস্বন পূর্ন একটি সমাজ চাই, যেখানে নারী পুরুষ সমান অধিকার নিয়ে বাস করবে। তিনি বলেন, নারী নির্যাতন কমাতে হবে সবার আগে। তা নাহলে নির্যাতন মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

নারী-পুরুষের মাঝে সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন এবং আইন ও আইনী প্রক্রিয়াকে নারী বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছে আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি এম. এনায়েতুর করিম বলেন, নির্যাতনের শিকার নারীর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আইন সহায়তা নিশ্চিতকরণের কাজ সরকারের। সরকারই পারে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ভুক্তভোগীদের আইন সহায়তা নিশ্চিত করতে। লিগ্যাল কমিটি ভুক্তভোগী সকল মানুষের আইন সহায়তা প্রদানের কাজ করলেও পর্যাপ্ত পরিমানে জেলায় লিগ্যাল এইড অফিসারের অভাবে কার্যক্রমটি সফল হতে পারছে না। বর্তমানে সারা দেশে মাত্র ২৮ জন লিগ্যাল এইড অফিসার রয়েছেন।

আইনে এখনো কিছু দুর্বলতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে আইন সংস্কার করতে হবে। এয়াড়া নির্যাতনের হার কমান সম্ভব হবে না।

সংলাপে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আমরাই পারি জোটের কো চেয়ার এম বি আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষণ জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং ইন্সটিটিউশনের পরিচালক মো: গোলাম কিবরিয়া, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার প্রতিনিধি, সম্মানিত বিচারকমন্ডলী ও আইনজীবীবৃন্দ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চেঞ্জমেকার সদস্য, নারী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ, সমমনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্ববৃন্দরা।



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon