• প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » ‘লিগ্যাল এইড’কে আরও বেগবান করতে এর শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাওয়া উচিত’



‘লিগ্যাল এইড’কে আরও বেগবান করতে এর শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাওয়া উচিত’


প্রকাশিত :১৮.১১.২০১৭, ৮:২৪ অপরাহ্ণ

বিনামূল্যে সরকারি আইনি সহায়তার জন্য ‘লিগ্যাল এইড’ এর কাজকে আরও বেগবান করতে এর শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাওয়া উচিত’।

নির্যাতনের শিকার নারীদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আইনি সহায়তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ক “সংলাপ”  অনুষ্ঠানে শনিবার (নভেম্বর ১৮) এ মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি এম ইনায়েতুর  রহিম বলেন,  রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আসলে আমার কোনো ভূমিকা নেই। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এর সমাধান খুবই চ্যালেঞ্জিং বিষয়। রাষ্ট্র আইন করেছে, কাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে সেটাও নির্ধারণ করে দিয়েছে।  কিন্তু যে সমস্যাগুলো আলোচনা হয়েছে সে সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সরকারকে সুপারিশ করতে হবে, কথা বলতে হবে। তবেই এর সমধান হতে পারে।’

নির্যাতিত নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’ এর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই বিচারপতি  বলেন, ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিসের কথা এসেছে। এই ওয়ানস্টপ সেবা’র বাস্তবয়ন করতে হলে আইনেরও সংশোধন প্রয়োজন।যেটা সরকারকে করতে হবে। এ বিষয়টা সরকারের উপলব্ধিতে আনানো প্রয়োজন। সে জন্য জনমতের প্রয়োজন।’

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের চেয়ারম্যান বলেন, ‘লিগ্যাল এইডের সঙ্গে কাজ করে আমার একটা উপলব্ধি হয়েছে যে,লিগ্যাল এইডের কাজকে আরও বেগবান, শক্তিশালী করা উচিত। এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যানে জেনেছেন ৬৪টি লিগ্যাল এইড কমিটির মধ্যে মাত্র ২৮টি কমিটিতে লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা আছে। এতদিন ধরেও আমরা এই পদগুলো পূরণ করতে পারছি না। এটা আমাদের নিম্ন আদালতের বিচারকদের সমস্যা। দ্রুত এই নিয়োগগুলো দেওয়া প্রয়োজন।

‘জেলা লিগ্যাল এইড কমিটিগুলোতে যে কমিটি আছে আছে এটাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সম্ভবত এ জন্য প্রতি জেলায় একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী বিচারককে নিয়োগ করা হয়। আমি মনে করি এখানে অতিরিক্ত জেলা জজকে নিয়োগ করা প্রয়োজন। তারসঙ্গে আরও দুই-তিনজন সহকারী দেওয়া প্রয়োজন’-মত দেন বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম।

পারিবারিক নির্যাতন নিয়ে সালিশি আদালতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নারী নির্যাতনের যে ধরণ বা পারিবারিক যে সহিংসতাগুলো হচ্ছে, এগুলো আদালত পর্যন্ত না গিয়ে তার আগেই যদি শেষ করা যায় তাহলে কিন্তু সকলপক্ষের জন্যই সুবিধা। আর এটা করতে হলে জেলা পর্যায়ের লিগ্যাল এইড কমিটিগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এবং আমি মনে করি তাদের হাতে আরও ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন, এখতিয়ার বাড়ানো প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে দেশের আটটি বিভাগের খুন, ধর্ষণ, হত্যা, যৌন হয়রানী, পারিবারিক নির্যাতনসহ নারী নির্যাতনের পরিবসংখ্যান (নারী নির্যাতনের সার্বিক চিত্র: ঘটনা অনুসন্ধান’) তুলে ধরেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল।

দেশের ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর বা প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সময়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ১৮৫টি। ধর্ষণ ৩১৯টি, হত্যা ২৬০টি, শিশু নির্যাতন ১৬০টি, যৌন হয়রানি ৮৯টি, আত্মহত্যা ৯৮টি ও পারিবারিক নির্যাতনের ৭১টি ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও, বাল্যবিয়ে, অপহরণ, গৃহকর্মী নির্যাতন, সালিশ ও ফতোয়া, এসিড সন্ত্রাস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তাপস কান্তি বল।

বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

 



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon