• প্রচ্ছদ » সারাদেশ » ৩৩ হাজার মেট্রিকটন গম জালিয়াতি মামলার আসামি মালেক মাঝীর জামিন



৩৩ হাজার মেট্রিকটন গম জালিয়াতি মামলার আসামি মালেক মাঝীর জামিন


প্রকাশিত :১৯.১১.২০১৭, ৫:০৩ অপরাহ্ণ

রীতিমতো আয়োজন করে ৫ হাজার ৯২টি ট্রাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গম বন্দরের গুদাম থেকে সরানোর পর জালিয়াতি করে বিক্রির অভিযোগে মেরিটস ফায়ার এন্ড মেরিন ইন্সুরেন্স কোং লি. নামক একটি কোরিয়ান কোম্পানির দায়ের করা মামলার আসামী আব্দুল মালেক মাঝীকে জামিন দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

আজ রোববার (১৯ নভেম্বর) চট্টগ্রামের এডিশনাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় আত্বসমর্পন করলে তদন্ত প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত আসামীর জামিনের আদেশ দেন আদালত।

হাইকোর্টের দেয়া ৬ সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষে আজ নিম্ন আদালতে হাজির হন তিনি। মামলার মোট সাতজন আসামীর মধ্যে আব্দুল মালেক মাঝি চতুর্থ আসামী এবং যিনি উক্ত গম গুদামজাত করার দায়িত্বে ছিলেন।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাহিম উদ্দীন চৌধুরী ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকমকে বলেন, এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামী হলেন আব্দুল মালেক মাঝি। এরকম স্পর্শকাতর মামলায় তদন্তের আগে একজন প্রভাবশালী আসামী জামিন পাওয়ায় তদন্ত বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছি। ”

অপরদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী মো.জাফর ইকবাল এর মোবাইলে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানিকৃত ৩৩ হাজার মেট্রিকটন গম চুরি ও জাল ঝালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগ এই মামলা দায়ের করে উক্ত কোম্পানির বাংলাদেশ প্রতিনিধি সোহেল রানা। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন – পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। অন্যান্য আসামীরা পলাতক রয়েছে।

জানা যায়, তিন বছর ধরে গম চুরির ঘটনার কূলকিনারা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই গমের আন্তর্জাতিক শিপিং এজেন্ট দাইয়ু করপোরেশনের দক্ষিণ কোরীয় বিমা কোম্পানি মেরিটস ফায়ার অ্যান্ড মেরিন ইনস্যুরেন্সের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। গত ২০ জুন হাইকোর্টের বিদেশি লেনদেন নিষ্পত্তি বিভাগে (অ্যাডমিরালটি বিভাগ) মামলা করা হয়। এ ছাড়া ২ আগস্ট চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর হাকিমের আদালতেও সাতজনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করা হয়।

এই দুই মামলার আসামিদের একজন ওই গমের প্রথম ক্রেতা রোকেয়া ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক সাইফুল ইসলাম। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ বণিক সমিতির সাবেক সহসভাপতি। এ ছাড়া ওই গম আমদানির শিপিং এজেন্ট জে কে শিপিংয়ের চারজন কর্মকর্তাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। তাঁদের একজন শিপিং কোম্পানির কর্মকর্তা ও খুলনা যুবলীগের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শওকত হোসেন। এ ছাড়া জে কে শিপিংয়ের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও প্রধান নির্বাহী কামরুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালামকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন ওই গম গুদামজাত করার দায়িত্বে থাকা আবদুল মালেক মাঝি ও জাহাজের এজেন্ট আক্তারুজ্জামান খান।

 

চট্টগ্রাম থেকে মো রায়হান ওয়াজেদ চৌধুরী/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon