বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের


প্রকাশিত :২০.১১.২০১৭, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ আইন। নজরে এসেছে, কোনো কোনো আদালত এ আইনের ১৯ ধারায় অপ্রাপ্তবয়স্কের বিবাহ অনুষ্ঠানের আবেদন বা কার্যধারাসমূহ অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করণার্থে কোনো প্রকার তদন্ত বা অনুসন্ধান ছাড়া বাল্যবিবাহের অনুমতি দিচ্ছেন, যাতে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীর স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এসব কথা উল্লেখ করে গতকাল রোববার (১৯ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের সরেজমিনে তদন্ত ও বিশেষ বিধান যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর বিশেষ বিধান যথাযথভাবে পালনসংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সার্কুলারটি জারি করা হয়।

সার্কুলারের শেষাংশে বলা হয়, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ১৯ ধারায় দাখিলি অপ্রাপ্তবয়স্কের বিবাহ অনুষ্ঠানের আবেদন বা কার্যধারাসমূহ নিষ্পত্তির পূর্বে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সরেজমিনে তদন্ত বা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান কার্যক্রমসহ সব বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলো।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত সার্কুলারে বলা হয়, এই আদালতের নজরে এসেছে, কোনো কোনো আদালত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ১৯ ধারায় অপ্রাপ্তবয়স্কের বিবাহ অনুষ্ঠানের আবেদন বা কার্যধারাসমূহ অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করণার্থে কোনো প্রকার তদন্ত বা অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করা ছাড়া বাল্যবিবাহের অনুমতি প্রদান করছে। এতে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীর স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে সার্কুলারটি প্রকাশিত হয়েছে। আইনটির বিশেষ বিধানসংক্রান্ত ১৯ ধারায় কোনো বিষয় নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকদের সার্কুলারটি অনুসরণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। সার্কুলারে ১৯ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে যথাযথ আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

সার্কুলারের শুরুতে বলা হয়, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রণীত একটি বিশেষ আইন। আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ (২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পুরুষ) এবং নারীর (১৮ বছর পূর্ণ হয়নি এমন নারী) বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, ওই আইনের ১৯ ধারায় নিতান্তই ব্যতিক্রম হিসেবে কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের বিশেষ বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এ বিশেষ বিধানটি আইনের ব্যতিক্রম হিসেবে সব সময় সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগযোগ্য। আবার এই আইনের অধীনে কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঘটনার সত্যতা নিরূপণের নিমিত্তে আদালতকে এ আইনের ১৬ ধারায় সরেজমিনে তদন্ত করার এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে। সংগত কারণে আদালত কর্তৃক বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদানের পূর্বে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষিত হওয়ার বিষয় সম্পর্কে সরেজমিনে তদন্ত বা বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান করা সমীচীন মর্মে প্রতীয়মান হয়।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সব জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, মুখ্য মহানগর হাকিম ও মুখ্য বিচারিক হাকিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাবরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

 

সুপ্রিমকোর্ট প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon