• প্রচ্ছদ » Uncategorized » বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুই সংবিধান: ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস



বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুই সংবিধান: ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস


প্রকাশিত :২১.১১.২০১৭, ২:২৬ অপরাহ্ণ

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুই সংবিধান। আর যে উদ্দেশ্য যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি সেটা যদি বুকে ধারণ করতে পারি সেটাই হল আমাদের মুক্তযুদ্ধের চেতনা। আর এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের আবার বঙ্গবন্ধুর কাছেই আসতে হবে।”

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সংবিধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গতকাল সোমবার (২০ নভেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।সভায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব এই আইনজীবী বলেন, “৭’ই মার্চের ভাষণই ছিল আমাদের স্বাধীনতার মূল সূচনা। আর ঐ ভাষণেই স্বাধীনতা ঘোষনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই ২৬ই মার্চেই আমাদের স্বাধীনতার ঘোষনা হয়েছিল। আমাদের স্বাধীনতা এসেছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে তারপরও আমাদের একটা আইনগত কাঠামো ছিল্। যেটা সচরাচর সবদেশে পাওয়া যায়না, সাধারণত যেসব দেশ শুধুমাত্র ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই সকল দেশেই পাওয়া যায়। কিন্ত আমরা পেয়েছি আমাদের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য।”

তিনি আরো বলেন “বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া মুক্তযুদ্ধের চেতনা হবেনা, বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া সংবিধান হবেনা আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছাড়াও সংবিধান হবেনা। আর এর কোনটাই হবেনা যদি না বঙ্গবন্ধুকে না জানি, বঙ্গব্ন্ধুর আদর্শকে উপলব্ধি করতে না পারি।

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ১৯৭৫ সালে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করা হয় নাই তার আদর্শকেও হ্ত্যা করে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবং ১৯৯৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত দেশে মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দিতেও ভয় পেয়েছে। আর এখন মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের পরিচয় মাথা উচু করে দেয় আর এ সবই বাস্তবায়ন হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন করার জন্য।”

অনুষ্ঠানে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন আইন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও আইন বিভাগের প্রধান ড. তুরিন আফরোজ।

ধারণা পত্র উপস্থাপন কালে তুরিন আফরোজ বলেন- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের এই চার মূলনীতি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথাই বলেছেন। তিনি বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির কথা বলেছেন। তাঁর বক্তৃতায় বাঙালি জাতির উপর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের নির্যাতনের করুণ বর্ণনা দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার তুরিন আরও বলে, বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বাঙালি জাতির গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি তুলেছেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে শোষণমুক্ত সমাজতন্ত্রের প্রতিফলনও আমরা দেখতে পাই। তিনি তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি জানিয়েছেন, তেমনি অসহযোগ আন্দোলনে শ্রমজীবী গরিব মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন।

ড. তুরিন আফরোজ বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে ধর্মনিরপেক্ষতার সাক্ষর রেখেছেন। তিনি তাঁর বাঙালি জাতীয়তাবাদ চেতনার প্রতিষ্ঠায় হিন্দু, মুসলমান, বাঙালি, অবাঙালি সবার কথাই বলেছেন।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ আয়োজিত এ আলোচনা সভা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শহিদুল হাসান।

 

সাজ্জাদ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon