•  

  • বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে একটি মহল: ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল

    আইনজীবীদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য নিয়ে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সভা ডেকে ক্ষোভ জানিয়েছে; মন্তব্যটি কি ছিল এবং মন্তব্যের বিপরীতে আইনজীবীদের অবস্থান কি জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ল’ইয়ার্সক্লাব বাংলাদেশ ডট কমকে জানান,

    কিছুদিন আগে লক্ষ্মীপুরে বারে সরকারি জায়গায় যেখানে সম্ভবত আদালত ভবন নির্মাণের কথা ছিল কিন্তু আইনজীবীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় আইনজীবী নেতারা সমিতির এক্সটেনশন ভবন নির্মাণ শুরু করে। এই নিয়ে একটি মামলা হয় এবং আইনজীবী সমিতির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার। মামলার শুনানিকালে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছেন, একজন আইনজীবী যদি তার আইন পেশার ভুমিকায় না থেকে মার্কেট করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাহলে আইনজীবীদের সম্পর্কে খারাপ ধারনা সৃষ্টি হবে এবং সাধারন মানুষ মনে করবে আইনজীবীরা আইন সহায়তা না দিয়ে নিজেরাই সরকারি জায়গা আত্মসাৎ ও চুরি-ডাকাতি করছে।

    পরবর্তীতে এই কথাটিকে একটি গোষ্ঠী ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করে। তারা ছড়িয়েছে যে, সকল আইনজীবীকে চোর-ডাকাত বলেছে প্রধান বিচারপতি। আমি সেদিন কোর্টে ছিলাম, মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্মীপুরের সে ঘটনায় জড়িতদের উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছেন। বর্তমানে বিচারপতিদের সাথে  আইনজীবীদের যে ধরনের একটি সুসম্পর্ক আছে সেটিকে নষ্ট করার জন্য একটি মহল সারাদেশে আইনজীবীদের মাঝে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। জানিনা এর নেপথ্যে কে আছে; তবে এটা ভেবে দেখার দরকার আছে।

    আর এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভা ডেকে এই মন্তব্যটি পরিস্কার করার জন্য মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়ে সময় বেধে দিয়েছে।

    আমি মনে করি, যখন যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেমের বিচার কাজ প্রায় শেষের দিকে তখন এই ধরনের একটি মন্তব্য ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ছড়িয়ে দেয়া এবং পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে দেয়ার চিঠি ইস্যু করার ঘটনা এক ধরণের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুনা। এই বিষয়টি সরকারের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

    সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে নিতে আইন মন্ত্রণালয় চিঠি দেয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে এই আইন কর্মকর্তা বলেন, আপনারা জানেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের একটি বড় ইতিহাস রয়েছে। আমাদেরকে দেখা উচিত এই আদালতে কাদের বিচার হচ্ছে, যারা একাত্তরে দেশ স্বাধীনের ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছে, যারা পাকিস্তানিদের সাথে হাত মিলিয়ে আমাদের প্রিয়জনকে হত্যা করেছে, মা বোনদের নির্যাতন করেছে তাদের। এই বিচার করার মধ্য দিয়ে কেবল মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, দেশের সকল মানুষের দাবী বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই চিঠিটি এমন একটি সময়ে পাঠানো হয়েছে, যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর বিচার কাজ প্রায় শেষের পথে। ঠিক এই সময়ে আদালত সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তটি মোটেই সমীচীন হবেনা। তাছাড়া এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে বিচারের জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রয়োজন রয়েছে তা বোধহয় অন্য কোন স্থানে সরিয়ে নেয়া হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হিমশিম খেতে হবে।

     

    সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- ড. বদরুল হাসান কচি, সম্পাদক- ল’ইয়ার্সক্লাব বাংলাদেশ ডট কম।

     
    ২৫ আগস্ট ২০১৬, বাংলাদেশ সময় ২২:০০