•  

  • এতো মৃত্যু! সড়কের অভিভাবক কোথায়?

     

    ড. বদরুল হাসান কচি

    সবশেষ ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ২১১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জন। গত ৭ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ১২ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে সংঘটিত দুর্ঘটনার হিসাবটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

    যেন মনে হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা একটি মহামারী অসুখের নাম। তেমন কোন চিকিৎসার উদ্ভব হয়নি বলে কিছু করা যাচ্ছে না। বানীর মতো একটি কথা প্রচলন আছে, সড়কে কিংবা কোন পাবলিক পরিবহনে তা দেখা যায়- সড়ক দুর্ঘটনা থেকে সচেতন থাকুন, একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। এই কথাটি যিনি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কেবল তিনিই বা তার পরিবার বুঝেন।

    দুর্ঘটনায় কেউ মারা যাচ্ছেন, কেউ পা হারাচ্ছেন, কেউ হাত। এই হারানোর দুঃসহ স্মৃতি সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তার পরিবারকে। কেউ মেনে নেন হয়তো এটা তার নিয়তি ছিল। অনেকে এই দায় দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রকে। যখন একজন অদক্ষ লাইসেন্সবিহীন  ড্রাইভার গাড়ি চালায় জনগণ তার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে গাড়িতে চড়েননা, তা দেখার দায়িত্ব সরকারের।  কিন্তু এই কাজটি কি সরকার ঠিক ভাবে পালন করছে? সংবাদসূত্রে পাওয়া তথ্যমতে দেশে যানবাহনের সংখ্যা ২৩ লাখ, অথচ লাইসেন্স আছে ১৫ লাখ ড্রাইভারের। তার মানে ৮ লাখ ড্রাইভারের কোন লাইসেন্স নেই, নাকি বলবো এই গাড়িগুলোর কোন ড্রাইভার লাগেনা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে। লাইসেন্সবিহীন এই বিশালসংখ্যক ড্রাইভারদের কাছ থেকে আমরা দক্ষতার সাথে গাড়ি চালানো প্রত্যাশা করি কি করে? আরও একটি পরিসংখ্যানের তথ্য আছে, উপরে উল্লেখ করা ২৩ লাখ গাড়ির মধ্যে নাকি ৩ লাখ গাড়ি ফিটনেসবিহীন। ফিটনেস ছাড়া গাড়ি নিশ্চয়ই সড়ক দুর্ঘটনায় বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। লাইসেন্সবিহীন চালক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি, এই চরম অব্যবস্থাপনার দায় সংশ্লিষ্টরা কি করে এড়িয়ে যাবেন?

    সড়ক নিয়ে গবেষণা কাজ করেন দেশের এমন একজন বিশেষজ্ঞ হচ্ছেন বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক সামছুল হক। তিনি মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে প্রতিবছরের জন্য আলাদা লক্ষ্য ঠিক করে কর্মসূচি নিতে হবে, কিন্তু সরকারের এমন পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানেননা। এই কথাটি যদি আমি টেনে বড় করি তাহলে বলতে হয়, দেশে প্রতিবছর কতোটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়, এর মাত্রা কি বাড়ছে না কমছে এবং সাধারণত ঘটনাগুলো কি ধরণের হয়ে থাকে এমন পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্টদের কাছে আছে কিনা তাও সন্দেহ আছে।

    সড়ক দুর্ঘটনায় এই মৃত্যুর মিছিল সামাল দিতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা জনগণ ভীষণ অনুভব করছে।   

     

    লেখক: আইনজীবী ও সম্পাদক, ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম।  

     

     

     

     

     
    ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬, বাংলাদেশ সময় ১১ঃ০০