•  

  • বিনা পরোয়ানায় তল্লাশীর ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারাসমূহ


    সোয়েব রহমান

    পুলিশ অফিসার কর্তৃক বিনা পরোয়ানায় তল্লাশীর ক্ষেত্রে বা তল্লাশীকালে অব্যশই ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১০২, ১০৩, ১৬৫, ১৬৬ ধারা এবং পিআরবি ২৮০ বিধি অনুসরণ করতে হবে:

    পুলিশ অফিসার কর্তৃক বিনা পরোয়ানায় তল্লাশীর ক্ষেত্রে-তল্লাশীর আগে, তল্লাশীর সময়, তল্লাশীর পরে নিম্নে উল্লেখিত ধারা অব্যশই অনুসরণ করতে হবে--

    তল্লাশীর আগেঃ

    ১। তল্লাশী কাজে স্বাক্ষী হওয়ার জন্য ২/৩ জন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিকে আহ্বান করতে হবে।{ফৌঃ কাঃ১০৩ ধারা, পিআরবিঃ ৪৬৫ নিয়ম}

    ২। কোনো গৃহে বা আবাস স্থলে তল্লাশী করার জন্য বাড়ীর মালিকের অনুমতি নিতে হবে। {ফৌঃ কাঃ ১০২(১) ধারা।}

    ৩ যে স্থান তল্লাশী করা হবে সেই স্থানে পর্দাশীল মহিলা থাকলে তাদের শালীনতা বাজায় রেখে সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যাহাতে কোন অপরাধজনক বস্তু নিয়ে পালাতে না পারে

    ৪। যারা তল্লাশী কাজে অংশ গ্রহণ করবেন তাদের পোশাক পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে । {পিআরবি ৯৫১ নিয়ম।}

    ৫। বাড়ীর মালিক ও সাক্ষীদের সামনে যাহারা তল্লাশী কাজে অংশ গ্রহণ করবেন তাদের শরীর তল্লাশী করে দেখাতে হবে।{ফৌঃ কাঃ ১০৩ ধারা, পিআরবি ২৮০ নিয়ম।}

    ৬। কোনো গৃহে বা আবাস স্থলে তল্লাশী করার সময় বাড়ীর মালিককে জিজ্ঞাসা করে নিতে হবে যে স্থান তল্লাশী করা হবে সেই স্থানে কোন অপরাধজনক বস্তু আছে কিনা।

    তল্লাশী সময়ঃ-

    ১। কোনো গৃহে বা আবাস স্থলে তল্লাশী কালে বাড়ীর মালিককে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশী করতে হবে ।{ফৌঃ কাঃ ১০৩(৩) ধারা।}

    ২। পরোয়ানায় উল্লেখিত স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থান তল্লাশী করা যাবে না।{ফৌঃ কাঃ ৯৭ ধারা।}

    ৩। পরোয়ানায় উল্লেখিত স্থান ভালভাবে তল্লাশী করতে হবে।

    ৪। যে বস্তুটির জন্য তল্লাশী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে সেই বস্তুটি যদি কারো শরীরে লুকায়িত আছে বলে সন্দেহ হয় তাহলে তার শরীর তল্লাশী করা যাবে।

    মহিলা হলে মহিলা দ্বারা তল্লাশী করাতে হবে।{ফৌঃ কাঃ ১০২(৩) ধারা, ফৌঃ কাঃ ৫২ ধারা।}

    ৫। বে-আইনীভাবে তল্লাশী বা তল্লাশী কালে কাউকে হয়রানি ও বিরক্ত করা যাবে না। {পিআরবি ২৬০ নিয়ম।}

    ৬। বাদীকে সঙ্গে রাখা যাবে না ।

    ৭। পরোয়ানায় উল্লেখিত বস্তু ব্যতীত অন্য কোন বস্তু হস্তগত করা যাবে না ।{ডিএমপি অধ্যাদেশ ৫১,৫২ ধারা।}

    তল্লাশীর পরেঃ-

    ১। তল্লাশী করিয়া কোন বস্তু উদ্ধার হলে ৩ কপি জব্দ তালিকা তৈরি করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ীর মালিককে এক কপি, কোটে এক কপি এবং থানায় এক কপি জমা দিতে হবে। {ফৌঃ কাঃ ১০৩(২),১০৩(৩) ধারা।}

    ২। তল্লাশী করিয়া কোন কিছু না পাওয়া গেলেও তিন কপি জব্দ তালিকা করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হবে।

    ৩। উদ্ধারকৃত মালামালের গায়ে লেবেল লাগাতে হবে। {পিআরবি ৩৭৯ (খ) নিয়ম।}

    ৪। তল্লাশী করার শেষে নিজের শরীর সাক্ষীদের সামনে পরীক্ষা করে দেখাতে হবে।

    ৫। তল্লাশী করার শেষে জব্দ তালিকা ছাড়া অন্য কোন মালামাল হস্তক্ষেপ করেন নাই তার একটি প্রাপ্তি স্বীকার বাড়ীর মালিক ও সাক্ষীদের নিকট হতে নিতে হবে।

    উপরে উল্লেখিত কার্যক্রম এর ক্ষেত্রে বা তল্লাশীকালে অব্যশই ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১০২,১০৩,১৬৫,১৬৬ ধারা, পিআরবি ২৮০ বিধি অনুসরণ করতে হবে।

     

    লেখক: অ্যাডভোকেট, জজকোর্ট কুমিল্লা।

     
    ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বাংলাদেশ সময় ১৫:৪৪