•  

  • বিচার শেষে যাদুঘর হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল


    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সকল মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার শেষে সেখানে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে করণীয় ঠিক করছে। জাদুঘর করার জন্য যে প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা দরকার তাও করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও এই ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশে তার সরকারের আমলে ও তিনি সাহস করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করেছে। এখনও অনেকের বিচারকাজ চলছে। এই অবস্থায় তিনিও চান ইতিহাসের পাতায় বিষয়টি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাক। আর সেই জন্য তারও আগ্রহ রয়েছে এই বিচারকাজের সকলনথিপত্র, রায় ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র ও এই ভবনের এর আগের যত প্রতিষ্ঠান ছিলো সেগুলোরও কর্মকান্ড তুলে ধরে এরপর সেখানে সেগুলোকে সংরক্ষণ করে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া । সেই সঙ্গে দেশে বিদেশের যারা এই ভবন নিয়ে ও মানবতাবিরোধি অপরাধের বিচার, রায়, রায় কার্যকর করা মামলা পরিচালণার জন্য কাজ করবেন তাদের গবেষণা করতে যাতে সুবিধা হয় সেই জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ তৈরি করা। সেই জাদুঘর ও লাইব্রেরীটি হবে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত।

    আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন হাইকোর্ট ভবন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে নিয়ে ওই ভবনটি দখল মুক্ত করে তা আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে বলেছে। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় সেটা দিতে চাইছে না। তবে এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে তারা এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। আইন মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে আরো কয়েকদিন সময় নিতে চাইছে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের রেজিস্ট্রারের চিঠির জবাব দিবেন।

    সরকারের একজন নীতি নির্ধারক মন্ত্রী জানান, আজকে যেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেই ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। সেখানে বৃটিশ আমলে গর্ভনর জেনারেল থাকতেন, এরপর পাকিস্তান আমলে ইস্ট পাকিস্তান হাইকোর্ট ছিলো। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর হাইকোর্ট করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠা করা হয় ল’ কমিশনসহ একাধিক অফিস। এরপর প্রতিষ্ঠা করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করেই এগুলো করা হয়েছিলো। এটা সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনকেও বুঝতে হবে। কিন্তু তারা বুঝতে চাইছে না বলে এটা ছেড়ে দিতে বলছেন। এই ভবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে। কালের অনেক কিছুরই স্বাক্ষী। সেই জন্য এই ঐতিহাসিক ভবনটিকে হাইকোর্টের কাছে বুঝিয়ে দিলে এর গুরুত্বটা ওই ভাবে থাকবে না। তাছাড়া মানবতাবিরোধি অপরাধের বিচার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই অধ্যায়টিও ওইভাবে থাকবে না। কিন্তু সেখানে জাদুঘর করা গেলে এটা সংরক্ষন করা সম্ভব হবে।

    জাদুঘর করা হলে সেটাকে কি একটি আদালত ভবনের ভেতরে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব? এই ব্যাপারে তিনি জানান, এটা সম্ভব। নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই সেটা করা সম্ভব হবে। এছাড়াও গবেষকরা সেখানে যাতে গবেষনা করতে পারেন সেই জন্য একটি লাইব্রেরীও থাকবে।দেশের গবেষকরা ছাড়াও বিদেশ থেকে যারা এই বিষয়ে গবেষণা করতে চান তাও করতে পারবেন।

    জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি অনুমতি দিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হবে। আর কথা বলেই তার সম্মতি নিতে হবে। তার সম্মতি না নিলে তিনি হয়তো তা নাও দিতে চাইতে পারেন। কিন্তু প্রকতৃ বিষয়টি তাকে বোঝালে তিনি বুঝবেন। তাছাড়া আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছেটাকেও প্রাধান্য দিতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করে এরপর এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস করানো হবে। পাশাপাশি যখন বিচার কাজ শেষ হয়ে যাবে এরপর যে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে সেই জন্য একটি বাজেটও তৈরি করতে হবে।

    শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট একজন মন্ত্রী বলেন, চাইলেই সরকার এখন হাইকোর্ট ভবন দখলমুক্ত করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিতে পারবে না। কারণ এখন শীর্ষ মানবতাবিরোধি অপরাধীদের বিচার হয়েছে। আরো অনেকের বিচার চলছে। আবারও কারো কারো বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সেই হিসাবে এই বিচার কাজ শেষ হতে আরো অনেক বছর লেগে যাবে। আমরা আগেই এই ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নিতে চাই জাদুঘর করার বিষয়টি। আর এখন যদি সরকার এখান থেকে আদালত সরিয়ে নেয়। এনিয়ে জনমনে ভুল ধারনা তৈরি হবে। মনে করবে সরকার বিচার শেষ করে দিতে চাইছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা এটা নয় তা কেউ বুঝতে চাইবেন না। এই কারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রশান চাইলেও এটা করা যাবে না।

    সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, আমি মনে করি কোন মতেই এই ভবন থেকে এখন এই আদালত সরিয়ে ভবনটি দখল মুক্ত করা যাবে না। বিচার কাজ চলবে। বিচারকাজ শেষে সেখানে জাদুঘর স্থাপন করা হবে। এটাই চুড়ান্ত। এর বাইরে সরকারের কোন ধরনের ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। বিচার কাজ চলার জন্য নিরাপত্তারও ব্যাপার আছে। অন্য জায়গায় আদালত সরিয়ে বিচার কাজ করাও কঠিন হবে। তাছাড়া আমরা যখন এটা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম তখনই পরিকল্পনা ছিলো সেখানে জাদুঘর স্থাপন করার। সেটা এখন বদল করা ঠিক না। সূত্র: আমাদের সময় ডটকম

     

    সম্পাদনা- ল'ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম

     
    ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বাংলাদেশ সময় ১৬:৩৩