•  

  • ঘুষ-দুর্নীতি কমেছে, আরও কমাতে হবে: সিপিডি


    বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের একধাপ এগোনো প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, বাংলাদেশ যা এগিয়েছে তা সন্তোষজনক নয়, আরও এগোতে হবে। ঘুষ-দুর্নীতি কমেছে, তবে এটা আরও কমাতে হবে।

    আজ বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সূচক প্রকাশ অনুষ্ঠানে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সিডিপির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। আরও বক্তৃতা করেন সংস্থাটির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

    সংবাদ সম্মেলনের আগেই ‍বিশ্বের ১৩৮টি দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক (২০১৬-১৭) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। এতে জানানো হয় সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। আগের বছর (২০১৫-১৬) ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৭। বাংলাদেশ সম্পর্কে এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করে সিপিডি।

    ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ঘুষ-দুর্নীতি কমেছে, তবে আরও কমাতে হবে। সূচকে যা এগিয়েছে তা সন্তোষজনক নয়।

    সিপিডির এ নির্বাহী পরিচালক বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ হাঁটছে। কিন্তু অন্যান্য দেশ দৌড়াচ্ছে। যে কারণে আমরা পিছিয়ে আছি।

    তিনি বলেন, দেশের প্রধান সমস্যা অবকাঠামো। রাজনৈতিক নেতা এবং আমলাদের নৈতিক অবস্থান দুর্বল। ঘুষ ছাড়া কর দেওয়া যায় না। ব্যবসার ক্ষেত্রে পুঁজির সহজলভ্যতা নেই।

    বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণের উচ্চ সুদ এবং বিভিন্ন কারণে ব্যবসার ব্যয় বাড়ছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগও বাড়ছে না।  

    তবু বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর আরও বেশি খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে এসেছে। দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা আর্থিকখাতের সুশাসন এবং অবকাঠামো। এরপরেই রয়েছে স্বাস্থ্য ও  শিক্ষা। এছাড়াও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং বাজারের আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়েছে। কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখনও যেসব বিষয়ের ওপর নজর দিতে হবে, তা হল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বিচার বিভাগ, শ্রমবাজারের দক্ষতা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি।

    ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুঁজির সহজলভ্যতা নেই। ব্যাংকে অলস টাকার পাহাড় জমা হলেও এখনও সুদের হার সেভাবে কমেনি। সহজে ঋণও পাওয়া যায় না।

    সিপিডির বিবেচনায় অন্যান্য সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- নীতি নির্ধারণে অস্থিতিশীলতা, প্রশিক্ষিত জনশক্তির অভাব, উচ্চ কর হার, করের বিভিন্ন আইনে জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রার নীতি, মূল্যস্ফীতি, নৈতিকতার অভাব, উদ্ভাবনী ক্ষমতার অভাব, শ্রম আইনের সীমাবদ্ধতা এবং জনস্বাস্থ্য।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট ৭ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৩ দশমিক ৮০। সংশ্লিষ্ট ১২টি খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩২ থেকে এসেছে ১২৫ এ, সামষ্টিক অথনৈতিক স্থিতিশীলতায় ৪৯ থেকে ৬৫, মার্কেট দক্ষতায় ১০১ থেকে ৯৬, শ্রমবাজারের দক্ষতায় ১২১ থেকে ১২০ এবং আর্থিক বাজারের দক্ষতায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯০ থেকে ৯৯তম স্থানে চলে এসেছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষায় গুণগতমানে পিছিয়েছে। অবনতি হয়েছে শেয়ারবাজারেরও।  

    বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বরাত দিয়ে সিপিডি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করে, বেশ কিছু কারণে বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে টাকা পাচার হচ্ছে। এরমধ্যে প্রথম কারণ হল রাজনৈতিক অস্থিরতা। এছাড়া রয়েছে ব্যবসায়িক পরিবেশের অভাব, দুর্নীতি, কালো টাকা, উচ্চ কর, দুর্বল শেয়ারবাজার, সহিংসতা এবং সরকারের নজরদারির অভাব।

    সিপিডির মতে, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চ জ্বালানি মূল্য। এছাড়া চ্যালেঞ্জ হতে পারে সুশাসন, অবকাঠামো, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিকল্পিত নগরায়নের অভাব এবং দেশের মধ্যে আভ্যান্তরীণ সংঘর্ষ।  

    অনুষ্ঠানে পরামর্শ দিয়ে সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। সংবাদপত্রকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। এছাড়া, দুর্নীতি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। সূত্র: বাংলানিউজ

     

    সম্পাদনা- ল'ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম

     
    ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বাংলাদেশ সময় ১৭:৩৬