জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস আজ

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:০৯ অপরাহ্ণ
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা লোগো

 

আজ (শনিবার) জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং আর্থ-সামাজিক কারণে অসমর্থ বিচার প্রার্থীদের সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে দেশে পালিত হচ্ছে এই দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- উন্নয়ন আর আইনের শাসনে এগিয়ে চলছে দেশ, লিগ্যাল এইডের সুফল পাচ্ছে সারা বাংলাদেশ।’

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি আইনি সেবার বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য সারা দেশে লিগ্যাল এইড র‍্যালি, মেলা, পথ নাটিকা, টক-শো, গোলটেবিল বৈঠক, সভা-সেমিনার, মাইকিং ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে পৃথক পৃথক বানী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে ষষ্ঠবারের মতো এ দিবস পালিত হতে যাচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আইনের আশ্রয়লাভ এবং ন্যায়বিচার পাওয়া দেশের প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপে ব্যয় বহন করা দরিদ্র জনগণের পক্ষে অনেক সময় সম্ভব হয় না। আবার আইন সম্পর্কে সার্বিক ধারণা না থাকাও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এর প্রেক্ষিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সংরক্ষণে সরকারি আইনগত সহায়তার ভূমিকা অপরিসীম।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বানীতে আইনি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি অন্যাদের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আইনি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বার কাউন্সিল, বার অ্যসোসিয়েশনসহ বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, গতমাসেই (মার্চ) বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ‘আমরা ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে চাই। এজন্য সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের আওতায় ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ সুপ্রিমকোর্ট, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে অসহায়, দরিদ্র ও নিঃস্ব জনগণকে বিনা খরচে সরকরি আইন সহায়তা ও নিষ্পত্তি করছে। যা আদালতসমূহে মামলাজট হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।