নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিল এমিকাস ল’ একাডেমী

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: 4 February, 2019 11:55 am

সর্বশেষ অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় এমিকাস ল’ একাডেমী থেকে ২৬৫ জন শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট হিসাবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন। সম্প্রতি নবীন আইনজীবীদের সম্মানে এবং তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি আলোচনা সভার পাশাপাশি একটি ডিনার প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক, বিচারক এবং সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা নবীন আইনজীবীদের এ পেশায় সফলতা অর্জনে করণীয় কি সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

সভায় সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে সকল আইনজীবীদের এক হয়ে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে এ পেশায় সেবাই মুখ্য, বাকী সব গৌণ।

আইন পেশার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবিকতা অর্থাৎ মানবতার সেবা করা উল্লেখ করে এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আরও বলেন, যেদিন থেকে এ পেশায় ঢুকবেন সেদিন থেকে নিয়মিত পড়তে হবে, প্রতিদিন পড়তে হবে। পড়াশুনার কোন বিকল্প নেই। দেশপ্রেম, একাগ্রতা, নিষ্ঠা হচ্ছে এ পেশার প্রধান হাতিয়ার। একজন আইনজীবী সমাজকে বাঁচাতে পারে, দেশকে বাঁচাতে পারে, সমাজ বিনির্মাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে। সর্বশেষ এ কথাটি মনে রাখবেন – আপনার মামলার ফি এর সাথে মায়ের কানের দুল, বোনের নাকের নল, কারো হালের বলদ, ভিটা-বাড়ি, কোন রকমের রক্ত ও কান্না জড়িত আছে কি? এসব ফি নিলে আপনি কখনও স্থায়ী সুখী হবেন না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, নবীন আইনজীবীদের ভালো করার পূর্বশর্ত – সিনিয়রদের সাথে থাকতে হবে, সিনিয়র কখন কোথায় কোন আবেদনটি করেন, কোন মামলাটি করেন, কোন আর্গুমেন্ট করেন, কিভাবে করেন, ভাষাটা কি খুব ভালো করে বুজতে হবে। সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে পেশাটি গ্রহণ করতে হবে। সৎ থাকুন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং আল্লাহ আপনার পাশে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা মহানগরের মাননীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান বলেন, আইনজীবীসহ সকল সচেতন নাগরিকদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার বলিষ্ঠ মানসিকতা থাকতে হবে। আইন পেশা সম্মানের পেশা। যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ পেশা অতুলনীয়। তাই একজন আইনজীবীকে হতে হবে পরিপূর্ণ দায়িত্বশীল ও সমাজ সচেতন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সম্মানিত শিক্ষক এ বি এম আশরাফুজ্জামান বলেন, উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তগুলোর সাথে পরিচিতি লাভ করতে হবে। নতুন নতুন যে আইনগুলো সংশোধনী হয় সেগুলোর সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।

নারায়ণগঞ্জের মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসাইন নবীন আইনজীবীদের নিয়মিত পড়ালেখা করার উপর তাগাদা দেন।

আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে নবীন আইনজীবীদেরকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়।

সমাপনি বক্তব্যে আইনের সহজপাঠ বইয়ের লেখক ও এমিকাস ল’ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মাহামুদ ওয়াজেদ বলেন, যেকোন সফলতার পিছনে পরিশ্রম জড়িত থাকে, তাই জীবনে সফল হতে হলে চেষ্টা করে যান, লেগে থাকুন সফলতা আসবেই, কারণ সফলতা পরিশ্রম বুঝে, কে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের, কে কোন জাতের বা ধর্মের সফলতা সত্যি-ই তা বুঝেনা।

এছাড়াও নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনার সহকারি জাজ তানজিনা চৌধুরী এমিকাস ল একাডেমির পরিচালনা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এম জে হাসান নির্ঝর।