মালিকবিহীন প্রাণী হত্যায় ছয় মাসের কারাদণ্ড

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০১৯ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

মালিকবিহীন কোনো প্রাণী হত্যা করলে ছয় মাসের জেল অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে কুকুরকে একটানা ২৪ ঘণ্টা বেঁধে বা আটকে রাখলে তা হবে নিষ্ঠুরতা। এই অপরাধের জন্য ছয় মাসের জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের মুখে পড়তে হবে।

এসব বিধান রেখে ‘প্রাণিকল্যাণ বিল- ২০১৯’ রোববার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ১৯২০ সালের পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরোধ আইন বাতিল করে নতুন আইন করতে বিলটি পাস করা হয়।

এই আইনে প্রাণী বলতে মানুষ ছাড়া সব স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ–জাতীয় প্রাণী, মাছ ছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণী এবং সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত অন্য কোনো প্রাণী বোঝাবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বিলটি সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।

আইনে বলা হয়েছে, যুক্তিযুক্ত প্রয়োজনে ভেটিরিয়ান সার্জনের লিখিত পরামর্শ ও পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনো প্রাণীর অজ্ঞান ও ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটানো হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রাণী জবাইকালে এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উৎসর্গকালে যেকোনো ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি কর্তৃক নিজস্ব ধর্মীয় আচার অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে তাকে নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য করা হবে না।

বিলে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রাণীকে দৈহিক কলাকৌশল প্রদর্শনের জন্য প্রশিক্ষণ বা দৈহিক কসরত প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ও কোস্টগার্ডের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

নিবন্ধন ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পোষা প্রাণী উৎপাদন এবং ওই উদ্দেশ্যে কোনো খামার স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না।

বিলে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন অপরাধের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। তবে তার আগে মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধের জন্য যে সমস্ত অপরাধের বর্ণনা ও দণ্ড বিদ্যমান আইনে আছে তা অনেকাংশে বর্তমানে অপ্রতুল ও প্রয়োগযোগ্য নয়। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিবেকসম্পন্ন মানুষ ভাষাহীন প্রাণীর কল্যাণে এগিয়ে এসেছে।