‘সন্ত্রাসবাদের মতোই তিন তালাকও অপরাধ’, বিল পাশ লোকসভায়

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০১৯ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

সন্ত্রাসবাদ ও তিন তালাকের অপরাধকে কার্যত একই বন্ধনীতে টেনে এনে নরেন্দ্র মোদী সরকার জানিয়ে দিল, সন্ত্রাসবাদী কাজে জড়িত থাকলে যেমন জেলে যেতে হয়, তেমনই তিন তালাক দিলেও জেলে যেতে হবে। আজ লোকসভায় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি তিন তালাক বিলের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ যেমন অপরাধ, তিন তালাকও অপরাধ। অপরাধ করলে জেলে যেতেই হবে। কংগ্রেস, তৃণমূল দাবি তোলে, সন্ত্রাসবাদ আর তিন তালাককে একসঙ্গে জুড়বেন না। সেই যুক্তি অবশ্য মানেনি সরকার। বিপুল সংখ্যাধিক্যে আজ তৃতীয় বারের জন্য তিন তালাক বিল পাশ হয়েছে লোকসভায়। কিন্তু রাজ্যসভায় এ নিয়ে ফের আপত্তি জানাবেন বিরোধীরা।

তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দিয়ে তিন বছরের কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করার প্রতিবাদে আজ কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি বিজেপির শরিক দল জেডিইউ-ও লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেছে। জেডিইউ সাংসদ রাজীব রঞ্জন বলেন, ‘‘তিন তালাকের মতো অপরাধ ঠেকাতে সামাজিক চেতনা বাড়ানো দরকার। গৃহবধূদের উপর নির্যাতন, পণপ্রথার বিরুদ্ধে আইন করেও এ সব ঠেকানো যায়নি। বরং এর অপব্যবহার হচ্ছে। একই ভাবে তিন তালাক আইনেরও অপব্যবহার হবে।’’ মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে জেডিইউ সাংসদ বলেন, ‘‘আমরা সরকারের আসল উদ্দেশ্য জানি। আপনারা জনমত পেয়েছেন। কাজ করুন। এ সব না হয় আবার ভোটের আগে করবেন।’’

২০১৭-র ২২ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দিয়েছিল। এর পর মোদী সরকার তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধের তকমা ও তিন বছরের জেলের নিদান দিয়ে বিল আনে। কংগ্রেস এবং তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, মুসলিম পুরুষদের হীন বলে প্রতিপন্ন করতে মোদী সরকার তাৎক্ষণিক তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দিয়ে কারাবাসের ব্যবস্থা করছে।

কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথায় লেখা রয়েছে , তাৎক্ষণিক তিন তালাক বা তালাক-এ-বিদ্দতকে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দিতে হবে? ২২টি মুসলিম রাষ্ট্রে তিন তালাক নিষিদ্ধ। কিন্তু কোথাও তাকে ফৌজদারি অপরাধের তকমা দেওয়া হয়নি। একমাত্র বাংলাদেশে তা রয়েছে। কিন্তু সেখানেও মাত্র এক বছরের জেলের নিদান রয়েছে। তিন তালাকের অপরাধ বধূ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন দিয়েই ঠেকানো যেত। হিন্দু, পার্সিদের ক্ষেত্রে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে ছেড়ে গেলেও এই রকম শাস্তির ব্যবস্থা নেই। সেখানে দু’বছর পরে স্ত্রী শুধু বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন। তা হলে শুধু মুসলিমদের ক্ষেত্রে এমন আইন কেন? গৌরব বলেন, ‘‘মোদী সরকার এখন সবকা সাথ, সবকা বিকাশের সঙ্গে সবকা বিশ্বাসের কথা বলছে। বিশ্বাস জিততে হলে গণপিটুনির বিরুদ্ধে আইন আনুন।’’

এমআইএম সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়েইসির প্রশ্ন, স্বামী যদি তিন তালাকের অপরাধে জেলেই চলে যান, তা হলে তিনি খোরপোষ দেবেন কী ভাবে? স্বামী তিন বছর জেলে গেলে তত দিন স্ত্রী-কে কেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে হবে? কেন মুসলিমদের বিয়ের নিকাহনামাতেই তিন তালাকের বিরুদ্ধে শর্ত লিখিয়ে নিতে বলা হচ্ছে না? কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান, কেউ যদি ভুল করে, রাগের মাথায় তিন তালাক বলে ফেলেন, তা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আপস করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে। কিন্তু অনড় থাকলে তাঁকে জেলে যেতে হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ম্যাজিস্ট্রেট ঠিক করবেন।

সূত্র- আনন্দবাজার পত্রিকা