বার কাউন্সিল সময়মত পরীক্ষা গ্রহণ করতে ব্যর্থ কেন, জবাব দেবেন কি?

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০১৯ ৭:০০ অপরাহ্ণ
মাহামুদ ওয়াজেদ, অ্যাডভোকেট

মাহামুদ ওয়াজেদ:

১। বার কাউন্সিলের বিদ্যমান আইন অনুসারে সকল আইনজীবীদের অভিভাবক বলা হয় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে। শিক্ষানবিশদের পরীক্ষা সময়মত গ্রহণ করার একচ্ছত্র অথরিটি হচ্ছেন বার কাউন্সিল, সেটা আইনেও আছে, আবার আপিল বিভাগের রায়ের মধ্যেও আছে। তাহলে সে পরীক্ষা বছরের পর বছর সময় মত না নেওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলেছে কেন? জবাব চাই?

২। এলএলবি শেষ করার পর ৪০-৫০ হাজার পরীক্ষার্থীদেরকে বার এক্সামের আশায় দিনেরপরদিন অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়। অপরদিকে বাবা –মা ভাবতে থাকেন তাদের সন্তানেরা উপার্জন করে তাদের কষ্টের দিনগুলো সুখের দিনে রুপান্তর করবে। আস্তেআস্তে তাদের এই আশা রঙ ফিকে হয়ে আসে। শিক্ষানবিশ আশ্বাস দিতে দিতে ভাবে কবে হবে বারের এক্সাম,  তারপর পরীক্ষা শুরু হলেও সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অ্যাডভোকেট সিল লাগাতে লেগে যায় আরো বছরখানিক। তারপর পরিবারের হাল ধরার মত সক্ষমতা গড়ার জন্য লাগবে আরো বছর ৩ থেকে ৫। একজন শিক্ষানবিশের মনে নানান চিন্তা ভর করে, পড়ালেখা শেষ বাসা থেকে টাকা চাইবার লজ্জা, বাড়ি গেলে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস,  লাইসেন্সছাড়া চেম্বারে পাই না কোন সম্মান বা টাকা-পয়সা, কর্পোরেটও নেই ভবিষ্যৎ,  সবকিছু যেন থমকে থাকে অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে।

৩। বড়বড় মানুষেরা এই বার কাউন্সিল পরিচালনা করে থাকেন, তারা কি আর এই ছোট মানুষগুলো নিয়ে ভাবেন। কষ্ট লাগে খুব যখন শুনি স্যারেরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত আছেন, অথবা অমুক স্যার ছুটিতে অথবা অমুক স্যারেরা কোর্টের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকাই খাতা দেখতে বা পরীক্ষা নিতে পারেন না বা পারছেননা।  হাজার হাজার তরুণ শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিয়ে যাদের কাজ করার কথা তারা তাদের কাজ যদি যথা সময়ে করতে না পারেন, তাহলে এই দায়িত্ব তারা কেন গ্রহণ করে বসে আছেন, এই জবাব তাদেরকে দিতেই হবে।  দিনেরপরদিন আমাদের শিক্ষানবিশ ভাইবোনদের ব্রাকেটে বন্ধি করে রাখার প্রয়াস আমরা মেনে নিতে পারিনা। অন্তত নেক্সট ইলেকশনে আমি ভোট দেওয়ার সময় ব্যাপারটা মনে রেখে ভোট দিবো?  আমি মনে করি আমরা নিজেরাও যারা ভুক্তভোগি ছিলাম, তাদেরও উচিৎ আগামী ইলেকশনে এটার একটা জবাব দেওয়া।

৪। আপনাদের দিকে চেয়ে থাকা হাজার হাজার সম্ভাবনাময়ি ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের এরকম হতাশাগ্রস্ত জীবন মেনে নিতে পারিনা। তারা অনেকে ট্রাক চেঞ্জ করতে বাধ্য হচ্ছে সময়মত পরীক্ষা না হবার জন্য। কী অদ্ভুদ ব্যাপার যাদের সনদের মেয়াদ হয়ে যাবার কথা ছিলো দুই বা তিন বছর, তারা এখন লালটাই ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াই। আপনাদের খারাপ লাগেনা। এই সন্তানদের দিকে তাদের পরিবারগুলো চেয়ে থাকে, তাদের অবস্থাতো একজন দিনমুজরের থেকেও খারাপ। সন্ধ্যাবেলায় তো একজন শ্রমিকেরও পকেটে ৫০০ টাকা থাকে, কিন্তু শিক্ষানবিশ আইনজীবীর থাকেনা বাস ভাড়াও।
এভাবে আর চলতে দেওয়া যায়না। শিক্ষানবিশ ভাইবোনদের মনে রাখা জরুরী যেনিজের অধিকারের ব্যাপারে সচেতনতা, সে কিভাবে অন্যের অধিকার আদায় করার লড়াইয়ে জিতবে। তাই তাদের দাবী তাদেরকেই আদায় করে নিতে হবে। এই ভাবে তো হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে অনিশ্চিত জীবন-যাপন করতে পারে না।

বার কাউন্সিলের পরীক্ষা সংক্রান্ত যারা অথরিটি আছেন তাদের প্রতি অনুরোধ শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দাবীগুলো মেনে অন্তত কার্যকরী একটা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করুন। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে প্রতি বছরের পরীক্ষা নেওয়া এবং সকল কার্যক্রম শেষ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের উপর নিয়ম করে ছেড়ে দিন। তাতে হাজার হাজার আইনের ছাত্র-ছাত্রীদের কিছুটা হলেও হতাশা থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করি।

লেখক- আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। waziibiswas@gmail.com

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম -এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।