র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে হাইকোর্টে তলব

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
সর্বোচ্চ আদালত

ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ব্যক্তিকে দেওয়া দণ্ডাদেশের ৪ মাস পেরোলেও আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি না পাওয়ায় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১ ডিসেম্বর সারোয়ার আলমকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এক রিটের শুনানি নিয়ে আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার পর আদেশের অনুলিপি দেওয়ায় নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না এবং পাঁচ দিনের মধ্যে (মিজানের ক্ষেত্রে) প্রত্যয়িত অনুলিপি দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আগামী ৭ দিনের মধ্যে আইন ও স্বরাষ্ট্রসচিব, নারায়ণগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, র‍্যাবের মহাপরিচালক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমসহ ৬ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম সাখাওয়াত হোসেন খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

আদালতের আদেশের পর এম শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিল করতে পারেন। এ জন্য আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি লাগে। মিজানের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনুলিপির জন্য দুবার আবেদন করা হয়। চার মাস পেরোলেও ওই অনুলিপি দেওয়া হয়নি। এই নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়।

গত ১৭ নভেম্বর সাজা দেওয়ার ৪ মাস পরও অনুলিপি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে মো. মিজান মিয়া রিটটি করেন। মিজান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের তপু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি পশুখাদ্য প্রস্তুতকরণ কারখানার ব্যবস্থাপক।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ জুলাই অভিযান চালিয়ে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মিজান মিয়াকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জের বটতলা খালপাড়ের তপু এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. মিজান মিয়াকে মৎস্য ও পশু খাদ্য আইন ২০১০ এর অধীনে ১৮ জুলাই এক বছরের সাজা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ বারের আইনজীবী অঞ্জন দাসের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিলের জন্য আদেশের অনুলিপি চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু অদ্যবধি এটা পাওয়া যায়নি। এ কারণে আপিলও করতে পারেননি মিজান মিয়া। আপিল করা আবেদনকারীর মৌলিক অধিকার।

আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় বলেন, কেন সার্টিফায়েড অনুলিপি দেওয়া হয়নি আগামী ১ ডিসেম্বর হাজির হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।