দেশের সকল অবৈধ লেভেলক্রসিং বন্ধে হাইকোর্টের রুল

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৩:০৯ অপরাহ্ণ
লেভেলক্রসিং

মানুষের জীবন রক্ষায় এবং নিরাপদ রেল চলাচল নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অবৈধ লেভেলক্রসিং বন্ধ, বৈধ লেভেলক্রসিং চিহ্নিত করে ফেঞ্চিংয়ের (কাটা তাঁরের বেড়া দেওয়া) কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রেল সচিব, স্থানীয় সরকার ও সড়ক সচিব, রেলের মহাপরিচালক ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা শাহিন আরা লাইলী।

রিটে বলা হয়, সারাদেশে একহাজার ৪১২টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। বুয়েটের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এআরআই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ২৩৫ টি দুর্ঘটনায় ২৪৪ জন মানুষ মারা গেছে এবং ২২৮ জন আহত হয়েছে। ২০১৭ সালে ২১১টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন মারা যায় এবং ১৫৫ জন আহত হয়। ২০১৬ সালে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৫৯ জন মারা যায় এবং ৪৬ জন আহত হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের আগস্টে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকাশিত ডাটাবেজ অনুযায়ী সারাদেশে ৯৪৬টি লেভেলক্রসিং অরক্ষিত অবস্থায় আছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন অনুযায়ী রেলওয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে ফেঞ্চিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। কিন্তু এত দুর্ঘটনার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

রিট আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে রেল বিভাগে এক হাজার ৪১২টি লেভেলক্রসিং রয়েছে। বুয়েটের দুর্ঘটনাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ২৩৫টি দুর্ঘটনায় ২৪৪ জন মানুষ মারা যান এবং ২২৮ জন মারাত্মকভাবে আহত হন। ২০১৭ সালে ২১১টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন মারা যান এবং ১৫৫ জন আহত হন। ২০১৬ সালের ১০ মাসে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৫৯ জন মারা যান এবং ৪৬ জন আহত হন।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বর-কনেসহ ১০ জন মারা যান এং পাঁচ জন গুরুতর আহত হন।