ব্যারিস্টার কায়সারকে নিয়ে এবার অস্বস্তিতে বিএনপি নেতারা

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

কেলেঙ্কারি পিছু ছাড়ছে না বিএনপির। কিছুদিন আগে বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ক্যাসিনো কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জড়িয়ে গেছেন নারী কেলেঙ্কারিতে। এক জুনিয়র আইনজীবীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ঝগড়া-মারামারির ঘটনায় তিনি এখন জেলহাজতে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এমন নৈতিক স্খলনে ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েছেন দলটির নেতারা। এ নিয়ে তারা সবাই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তারা এটা মানতেও পারছেন না- সহ্যও করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের সামনে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার সহকারী জুনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আতিকুর রহমানের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ঝগড়া-মারামারির সময় কলাবাগান থানা পুলিশের হাতে আটক হন। আতিকুর রহমান নারী হেনস্থা, প্রতারণা ও সংসারের ক্ষতির অভিযোগ তুলে কায়সার কামালের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার করেন।

আতিকুরের অভিযোগ, তার অজান্তে তার স্ত্রীকে নিয়ে কায়সার কামাল গোপনে গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াতেন, বিভিন্ন স্থানে সময় কাটাতেন। এক পর্যায়ে কায়সার কামাল ও আতিকের স্ত্রীর মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এতে আতিকের সংসারের ও ব্যক্তি হিসেবে বিপুল ক্ষতি হয়েছে। পরে সেই মামলায় কায়সার কামালকে আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরনারীতে আসক্তির কারণে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ত্যাগ করেছেন তার স্ত্রী। এই সুযোগে কায়সার কামাল লন্ডন ও ঢাকায় কয়েকজন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। শুধু দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে কায়সার কামালের সুসম্পর্ক থাকায় এ নিয়ে কেউ টু শব্দও করতে পারছিলেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই স্খলনের অভিযোগে তাকে কারাগারে যেতেই হলো। এখন তাকে জামিনে মুক্ত করার জন্য বিএনপির একটা অংশ সক্রিয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল- যে দল ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের একটি জনপ্রিয় দলের গুরত্বপূর্ণ নেতা যখন দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে সখ্যের প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান, তা অন্যদের জন্য লজ্জাজনক। আমি মনে করি, গোপনে কে কী করেছে না করেছে সেটা হয়তো আমাদের বিবেচ্য বিষয় না হতে পারে, কিন্তু নিজের সহকারীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে যখন রাস্তা ঘাটে তাকে মারামারিতে জড়াতে হয়েছে, সে অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করেছে, ওইদিনই কায়সার কামালকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা উচিত ছিল। তাহলে জনগণের কাছে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়ে যেত। এখন দেখা যাক তারেক সাহেব কী করেন।

বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের একজন নেত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, সাধারণ একজন মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগ করলে মানুষের তা নিয়ে কিছু আসে যায় না। কিন্তু ধর্মীয় লেবাসের কেউ যদি করে- তা নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী, এসব সামাজিক পদ ব্যবহার করে তিনি যে নির্লজ্জ জঘন্য কাজ করেছেন, তাতে দলের নেতাদের মধ্যে ভীষণ অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি। না পারছি বলতে, না পারছি সহ্য করতে। বলতে পারেন, বুক ফাটছে তো মুখ ফুটিছে না।

এ ঘটনায় কায়সার কামালের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় দলের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয়েছে কি-না বা নেতারা বিব্রত কি-না জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক ১০ মিনিট পর কল করবেন বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি জানি না- কী মামলা। আমি প্রথম আপনার কাছে শুনলাম। আল্লাহর কসম জানি না। আমি হাসপাতালে ছিলাম, কেউ আমাকে কিছু বলেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির সহযোগী সংগঠন নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের প্রধান সেলিমা রহমান বলেন, মামলা কেন হলো, কী কারণে হয়েছে আমি সঠিক জানি না। আজ-কালতো মামলার কোন কারণ লাগে না। সত্যি কথা বলতে কী, আমরা যারা বিএনপি করি বা দলের যে সিনিয়র নেতারা আছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মামলা দেয়া হয়। আমরা শুনেছি তার বিরুদ্ধে একটা মামলা দেয়া হয়েছে, তিনি কারাগারে আছেন। এটা সঠিক কি বেঠিক আমি জানি না। সরকার তো যে কোনভাবেই নিষ্পেষিত করছে বিএনপিকে। বিশেষ করে, তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সনের একজন আইনজীবী। সুতরাং তাকে তো হেনস্তা করার জন্য মামলা দিতেই পারে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নিজ জেলা নেত্রকোনার সন্তান ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ খোরশেদ আলম মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা উচিত হবে না। সিনিয়র নেতারা আছেন, তারা এ বিষয়ে বলতে পারবেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে চারদিকে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, তাতে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিষয়টা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ কি-না, সেটা আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার। এজন্য নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সূত্র: জনকণ্ঠ