খতিয়ানে যাবতীয় ভুলের সমাধান

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২০ ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
জয়নাল আবেদীন মাযহারী, অ্যাডভোকেট

জয়নাল আবেদীন মাযহারী :

আলোচ্য বিষয় জানতে হলে আমাদেরকে সর্ব প্রথম জানতে হবে খতিয়ান বা পর্চা কাহাকে বলে? খতিয়ান শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। এর উৎপত্তি হয়েছে “খত” বা লিখন থেকে। একে পরিভাষায় বলা হয়; Documents prepared through survey for the purpose of determining possession, ownership and assessing Land Development Tax is known as Khatiyan.

সহজভাবে বলতে গেলে, খতিয়ান বলতে আমরা বুঝি, ভূমধ্যাধিকারীর নাম ও প্রজার নাম, জমির দাগ নং, পরিমাণ, প্রকৃতি, খাজনার হার ইত্যাদি সম্বলিত তথ্য সহ মৌজা ভিত্তিক এক বা একাধিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরণ সহ যে, ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

প্রত্যেক দেশের সরকার ২০-৩০ বছর অন্তর অন্তর তাহার দেশের নাগরিকদের জায়গাজমির তথ্য হাল নাগাদ করার নিমিত্তে জরিপ কার্য্য পরিচালনা করে থাকেন। ‍উক্ত জরিপ কার্য্য পরিচালনাকালীন খতিয়ানে কিছু ভূল ভ্রান্তি হয়ে থাকে। সে জন্য জরীপ কর্মচারীগণ জরীপ কার্য্য সমাপ্ত করার পর উক্ত ভূমি সংক্রান্তে একটি খসড়া খতিয়ান প্রস্তুত করে থাকেন। উক্ত খতিয়ানের চুড়ান্ত প্রকাশনার পূর্বে সরকার কতৃক ঘোষিত সময়ে সম্পত্তির মুল মালিককে একটি খসড়া খতিয়ান সরবরাহ করা হয়, যাতে জমির মালিক দেখতে পারেন যে, তাহার সম্পত্তি সংক্রান্তে খসড়ায় কোনরুপ ভূল ভ্রান্তি আছে কিনা।

সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ে খতিয়ানের ভূল সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে আবেদন করে খসড়া খতিয়ান সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে খসড়ার ভূলটা যদি যৌক্তিক হয় তাহলে সহকারী কমিশনার ভূমি আপনার খতিয়ান সংশোধন করে দেবেন। যদি তিনি ভূল মর্মে সন্তুষ্ট না হন এবং আপনার মালিকানার খতিয়ান ভূলভাবে চুড়ান্ত প্রকাশিত হয় অর্থাৎ আপনার সম্পত্তির যে কোন প্রকার ভূল চুড়ান্ত খতিয়ানে থেকে যায় তাহলে আপনাকে উক্ত খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ হওয়ার পরবর্তী এক বছরের মধ্যে অথবা আপনার সংশ্লিষ্ট জেলায় ভুমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পরবর্তী এক বছরের মধ্যে আপনার খাতিয়ানের ভূল সংশোধন চেয়ে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ১৪৫ক(৪) ধারা মোতাবেক ট্রাইব্যুনালে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

আইনের বিধান অনুযায়ী এক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারলে মোকদ্দমা করার জন্য আপনি সর্বোচ্চ আরও একবছর সময় পেতে পারেন। উক্ত ট্রাইব্যুনালে সরকার কর্তৃক প্রনিত সর্বশেষ খতিয়ানের সংশোধনের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে। এক্ষেত্রে সর্বশেষ খতিয়ানের পূর্ববর্তী কোন খতিয়ানে ভূল পরিলক্ষিত হলে আপনাকে ট্রাইব্যুনালে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে খতিয়ানের ভূল সংশোধনের জন্য ঘোষনা চেয়ে মোকদ্দমা করে আপনি প্রতিকার পেতে পারেন।

ট্রাইব্যুনালে মোকদ্দমা আনয়ন করার পরও বিজ্ঞ আদালত আপনার খতিয়ান সংশোধনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট না হলে অর্থাৎ আপনার মোকদ্দমা খারিজ করে দিলে বা আপনি উক্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে উক্ত আইনের ১৪৫গ ধারার বিধান মতে মাহমান্য সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে লিভ টু আপীল দায়ের করে আপীলের অনুমতি সাপেক্ষে আপীল করে আপনি আপনার কাংখিত প্রতিকার পেতে পারেন।

জয়নাল আবেদীন মাযহারী : অ্যাডভোকেট জজ কোর্ট, কুমিল্লা।
joinalmajhari@gmail.com