‘এমপি হারুন পাকিস্তান যেতে চান, আমরা যাবো না’

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২০ ৯:১১ অপরাহ্ণ
সংসদে আইনমন্ত্রী

দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন নয় বলে অভিযোগ করে পাকিস্তান আমলে যে লক্ষ্য নিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল সেটা পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনর রশীদ। জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজ তার (হারুনর রশীদ) আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি শুধু পাকিস্তান যেতে চান না। সব কিছু নিয়ে পাকিস্তান যেতে চান। আমরা সেখানে যাবো না।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে আইন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির উপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুনুর রশিদ একথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

এমপি হারুন বলেন, সরকারি দলের বিপক্ষে রায় দেওয়ায় অনেক অধঃস্তন বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। আমি মনে করি বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে আমাদের স্বাধীনতার আগে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আমরা পূরণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করবো। সেই হিসেবে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

এসময় সরকারি দল আওয়ামী লীগের সদস্যরা প্রতিবাদ করতে থাকলে হারুনুর রশিদ বলেন, হ্যাঁ পাকিস্তান আমলে। স্বাধীনতার পূর্বের কথা বলছি।

পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজ তার (হারুনর রশীদ) আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি শুধু পাকিস্তান যেতে চান না। সব কিছু নিয়ে পাকিস্তান যেতে চান। আমরা সেখানে যাবো না। সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না। আমরা ন্যায় বিচার দিয়েছি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আজ উনি সংসদে বলছেন ন্যায় বিচারের কথা! শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা শেষ করেছে। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার হয়েছে। যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

হারুনের বক্তব্যের পর বিরোধীদল জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান প্রস্তাবের প্রতিবাদ ও কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ। পাকিস্তানি বিচার আমরা চাই না। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের বিচার ব্যবস্থায় পরিচালিত হতে চাই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জিয়াউর রহমানের আমলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এদেশে বিচার বন্ধ করা হয়েছিল।

ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলেচনায় হারুনুর রশিদ আরও বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে- আমি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করবো কিনা। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। বিচার বিভাগ এখনও নির্বাহী বিভাগের অধীন। বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালতে বিভিন্ন নির্দেশে বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে। এটি আমাদের সত্যিকার অর্থে ন্যায় ও সঠিক বিচারের অন্তরায়।