আটকের পর আসামিকে মিডিয়ার সামনে আনা বিচারকে প্রভাবিত করার সমান: হাইকোর্ট

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৫:০৫ অপরাহ্ণ
উচ্চ আদালত

কোনো বিষয়ে তদন্তের পর রিপোর্ট দেয়ার আগেই ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মিডিয়ায় কথা বলা অনুচিত মন্তব্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, আসামি কিংবা অভিযুক্তকে গ্রেফতার বা আটকের পর মিডিয়ার সামনে আনা বিচারকে প্রভাবিত করার সমান।

নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্রী জীবিত থাকার পরও তাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে হাইকোর্টে করা আবেদনের শুনানিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। আর দুই তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী।

এ সময় আদালত বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের পরই আইনশৃংখলা বাহিনী ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করেন। তখন ব্যক্তি মিডিয়ার সামনে আনা বিচারকে প্রভাবিত করার সমান বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। বিচার শেষ হওয়ার আগেই এভাবে ব্যক্তিকে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত করা হয়, তা কি ঠিক? কোনো বিষয়ে তদন্ত চলার পর রিপোর্ট দেয়ার আগেই ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিডিয়ার সামনে কথা বলেন, যা অনুচিত। তখন সাংবাদিকরা কী করবে? তারা এসব ঘটনা পেলে তো লিখবেই।

আইনজীবী শিশির মনির শুনানিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নেদারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আসামির জবানবন্দি গ্রহণের সময় আইনজীবীর উপস্থিতিতে বা আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়ে থাকেন। দেশেও ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি গ্রহণের সময় আইনজীবীর উপস্থিত থাকা উচিত।

শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এ মামলার আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায় সংক্রান্ত জবানবন্দি গ্রহণের কার্যক্রমের বৈধতা ও যৌক্তিকতার প্রশ্ন তুলে করা আবেদনের (রিভিশন) ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর ওই দিনই বিচারিক আদালতের সব রেকর্ড ও মামলার দুই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। তলবের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দুই তদন্ত কর্মকর্তা হাইকোর্টে উপস্থিত হন। এর শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী দিশা নিখোঁজ হয়। ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব ও খলিল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

স্বীকারোক্তিতে তারা বলে, তারা দিশাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট দিশাকে খুঁজে পাওয়া গেছে, সে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এরপর আসামিরা কীভাবে ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কিত স্বীকারোক্তি দিলো তা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জীবিত থাকার পরও নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায় সংক্রান্ত সদর থানার কার্যক্রমের বৈধতা ও যৌক্তিকতার প্রশ্নে হাইকোর্টে আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী।