ভ্রাম্যমাণ আদালতে আইনজীবীর দণ্ড, বিভাগীয় তদন্তের দাবি

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২০ ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রবিউল ইসলাম রিপনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের আইন বিচার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এমন দাবি জানান অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির একজন নিয়মিত সদস্য এবং রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। চলতি বছরের ২ মে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ সংশোধনী ২০১৯ এর ৬(১) ও ৭(১) ও (২) ধারা লঙ্ঘন করে আমাকে সাজা দিয়েছেন।

এ আইনজীবী তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে বে-আইনিভাবে ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে সাজা দেয়া হয়েছে। যা ছিল রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি ও একজন আইনজীবী হিসেবে আমার জন্য খুবই অবমাননাকর। আমাকে অন্যায়ভাবে এ সাজা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সাজা প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

রবিউল করিম রিপন বলেন, ভারাক্রান্ত ও বেদনাবিধুর মন নিয়ে আপনাদের (সাংবাদিকদের) সামনে উপস্থিত হয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক কাজ। আর এজন্যই চলতি বছরের মে মাসে আমি বরিশাল সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের সঙ্গে বলতে হয়- করোনাকালে স্বল্পমূল্যে টিসিবি পণ্য সরবরাহের কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছি। পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে সাজা দিয়ে আমার মানসম্মান ও আইনি পেশার ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বছরের মে মাসে করোনার সময় সরকারিভাবে টিসিবি পণ্য বিতরণ করার কথা ছিল সাধারণ মানুষের কাছে। কিন্তু টিসিবি কর্মকর্তারা পাইকারি দরে মুদি দোকানদারের কাছে পণ্য বিক্রি করছিল, এর প্রতিবাদ করায় আমাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে (মোবাইল কোর্টে) ভ্রাম্যমাণ আদালতে এমন সাজা দেয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও টিসিবি কর্মকর্তা পণ্য বিক্রয় বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেননি। টিসিবি পণ্য ডিলার ও অফিসারের মাধ্যমে পাইকারি মুদির দোকানে বিক্রির বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থাও নেননি। আমাকে সাজা দেয়ার বিষয়ে দায়ের করা আপিল মোকাদ্দমাটি নিষ্পত্তি না করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর পাশাপাশি আমাকেসহ সারাদেশের আইনজীবীদের মানহানি করা হয়েছে। পেশাগতভাবে আমি ৫০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। এজন্য আমাকে সাজা প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ আমার দায়েরকৃত ফৌজদারি আপিল নিষ্পত্তি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিচারাঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ২ মে বরিশালে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে বাধা দেওয়া ও ট্যাগ অফিসারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আইনজীবী রবিউল ইসলামকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, টিসিবির এক ডিলার ট্রাকে করে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করছিলেন। তখন রবিউল ইসলাম রিপন নামে এক ব্যক্তি টিসিবির বিরুদ্ধে অকারণে নানা অভিযোগ করেন। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টিসিবির কর্মকর্তাকে জানাচ্ছিলেন। তখন তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন অভিযুক্ত রিপন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার দায়ে রিপনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায়।