হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি পেলেন প্রতিবন্ধী রাসেল

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
মো. রাসেল ঢালী

উচ্চ আদালতের রায়ের ফলে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক মো. রাসেল ঢালী।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তিনি কাজে যোগ দেবেন। রাসেল ঢালীর বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার চন্দধুল গ্রামে। তার কর্মস্থল ইছাপুরা ইউনিয়নে।

রাসেলের নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের করা রিটের রায়ের নির্দেশনা ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের স্মারকপত্রের আলোকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এবং ১৬তম গ্রেডে বেতনে রাজস্ব খাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেয়া হলো।

আদালতে রাসেল ঢালীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোকলেছুর রহমান।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় সাত বছর পর চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাসেলের রিট মামলাটি সম্পূর্ণ বিনা খরচে পরিচালনা করেছেন এই আইনজীবী।

নিয়োগের বিষয়ে আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ বলেন, রাসেল ঢালী আদালতের রায়ের আলোকে নিয়োগ পাওয়ায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। দেরিতে হলেও রাসেল ঢালী ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে মুন্সিগঞ্জ জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। একই বছর ২১ জুন লিখিত পরীক্ষায় জেলার বিভিন্ন থানার ৫৭ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন, যার মধ্যে রাসেলও ছিলেন। পরে ওই বছরেরই ১৫ ডিসেম্বর ১৯টি পদের মধ্যে ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন থেকে তৃতীয় শ্রেণির ওই পদে নিয়োগ বঞ্চিত রাসেল ঢালী হাইকোর্টে রিট করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, শারীরিক প্রতিবন্ধী রাসেল ঢালী পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের মধ্যে ২৮ নম্বর পেয়েছেন। মৌখিক পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রতিবন্ধী কোটা থাকার পরেও তিনি চাকরি পাননি।

রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ২ জুন হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পদে প্রতিবন্ধী কোটায় রাসেলকে কেন নিয়োগ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একটি পদ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর তাঁকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়ে রায় দেন আদালত।