জামিন নামঞ্জুরের সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর বাদীর জিম্মায় মুক্ত দেবাশীষ বিশ্বাস

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ৩:৫০ অপরাহ্ণ

প্রতারণার মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুরের সাড়ে তিন ঘণ্টা পরই আপোষের শর্তে বাদীর জিম্মায় মুক্ত হয়েছেন উপস্থাপক ও নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর এ আদেশ দেন।

এর আগে, আসামি দেবাশীষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় এদিন দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূরের আদালত বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর দুই পক্ষের আইনজীবীরা বসলে আসামি দেবাশীষ মামলার দাবীকৃত এক লাখ ৪০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিন নামঞ্জুরের আদেশ রিকল চান।

পরে বিচারক তাকে বাদীর আইনজীবী খন্দকার মহিবুল হাসান আপেলের জিম্মায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জামিন দেন। দাবীকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ওইদিন তার বিষয়ে পরবর্তী আদেশ হবে।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, সিএনটিভি ইউটিউব চ্যানেলের মালিক লিটন সরকার ইমন নামে এক ব্যক্তি দেবাশীষ বিশ্বাসের মা গায়েত্রী বিশ্বাস প্রযোজিত চারটি বাংলা চলচ্চিত্র- মায়ের মর্যাদা, শুভ বিবাহ, অপেক্ষা এবং অজান্তে ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করতে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই ৬০ বছরের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বাণিজ্যিক শর্তে কিনে নেন। তিনি চলচ্চিত্রগুলো ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করলে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ চ্যানেল বন্ধ করে দেয়।

পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এই চারটি চলচ্চিত্র আসামিরা তার আগেই ২০১৭ সালে অন্য দু’জন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। যার কারণে ইউটিউব চ্যানেল কর্তৃপক্ষ চলচ্চিত্রগুলো আপলোড করার পর লিটন সরকার ইমনের চ্যানেল বন্ধ করে দেয়।

এরপরই ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সিএমএম আদালতে লিটন সরকার ইমন বাদী হয়ে দেবাশীষ বিশ্বাস ও তার মায়ের নামে প্রতারণার মামলা করেন। পরে আদালত এ বিষয়ে মিরপুর রূপনগর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

তদন্ত কর্মকর্তা ও রূপনগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মোকাম্মেল হোসেন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আসামিদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।

আসামিরা হাজির না হওয়ায় চলতি বছর ২১ অক্টোবর বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ারা জারি করেন।