পুলিশ হেজাজতে রায়হানের মৃত্যু: এবার গ্রেফতার এএসআই আশেকে এলাহী

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ৩:১৪ অপরাহ্ণ

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় এবার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আশেকে এলাহীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সিলেটের পুলিশ লাইন্স থেকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেফতার দেখান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই সিলেটের পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পিবিআইর তদন্ত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

এ নিয়ে রায়হান হত্যা মামলা পুলিশের তিন সদস্যকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ।

এছাড়া রায়হানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযাগকারী সাইদুর শেখকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদসরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবার পক্ষ থেকে দাবি করা হয় সিলেট কোতোয়ালি থানাধীন বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান। নিহত রায়হান নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়ান মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিতে থাকে। মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন।

মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত কার্যক্রম চালায়। নিহতের মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়। রায়হানের দেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন মেলে ফরেনসিক রিপোর্টে।

এরইমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর পলাতক থাকলেও পুলিশ হেফাজতে থাকা কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ২০ অক্টোবর ও হারুনুর রশিদকে ২৪ অক্টোবর গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২২ অক্টোবর এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা।