যুদ্ধাপরাধের ৩০তম রায়ের অপেক্ষা, আপিলে ৩ মামলা শুনানি কার্যতালিকায়

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১:৪৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ফাইল ছবি)

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধে ৩০তম মামলা রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। রায়ের অপেক্ষায় থাকা ৩০তম মামলায় আসামি হচ্ছেন মোট পাঁচজন। তারা হলেন- মৌলভীবাজারের সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ, মো. নেছার আলী, ইউনুছ আহমেদ, ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী ও মোবারক মিয়া। তাদের মধ্যে ইউনুছ আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী কারাগারে, বাকিরা পলাতক রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২০ নভেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আনা এটিএম আজহারুল ইসলাম, সৈয়দ মো. কায়সার ও মাওলানা আবদুস সুবহানের আপিল মামলা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চে শুনানির জন্য মামলার কার্যতালিকায় গত ৬ ডিসেম্বর জামায়াত নেতা আজহারের আপিল মামলা ২৯নং ক্রমিকে ও সুবহানের মামলা ৩১নং এবং জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কায়সারের আপিল মামলা ৩০নং ক্রমিকে ছিল।

আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেছিল ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাজাকার কমান্ডার ও শান্তি কমিটির সদস্য সৈয়দ মো. কায়সারকে মৃত্যুদন্ড এবং ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলায় শান্তি কমিটির নেতা সুবহানকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। আইন অনুযায়ি সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে দন্ডিত এই তিন আসামীই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে।

এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতে সাতটি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তণ আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তণ দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তণ নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতেও জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় দিয়েছিল। আরো বেশক’টি মামলা আপিলে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে বলে জানায় এটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্র।
-বাসস

সম্পাদনা – ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম