তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ ও বাস্তবতা

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২১ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
মোঃ ফিরোজ উদ্দিন

মোঃ ফিরোজ উদ্দিন:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুসারে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং অনুচ্ছেদ ৩৯ এ জনগণের চিন্তা, বিবেক এবং বাক-স্বাধীনতার নিশ্চিয়তার কথা বলা হয়েছে। উপরোক্ত অধিকার নিশ্চিতকরণে সহায়ক এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি ও নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়। আইনুসারে তথ্য বলতে ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নির্বিশেষে যে কোন তথ্যবহ বস্তু বা এর প্রতিলিপিকে বুঝায়। তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত কিছু সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে ধারা ৪ অনুসারে একজন ব্যক্তি তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে কোন সরকারি/বেসরকারিকর্তৃপক্ষের নিকট তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারেন।

তথ্য অধিকার আইন অধিকার আদায় ও রাষ্ট্রীয় কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের অবারিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারনে আইন প্রয়োগের উল্লেখযোগ্য প্রসার দেশে হয়নি। অথচ আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগের কাব্যিক চরিত্রয়াণের দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগ সীমিত কারন এর প্রায়োগিক জটিলতা যা সাধারণ মানুষের নিকট দুর্বোধ্য, সচেতন মহলের আইনে প্রয়োগে অনীহা, সরকারের উদাসীনতা, তথ্য কমিশনারদের তথ্য অধিকার আইনের জ্ঞানের স্বল্পতা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানে শীথলতায় আইন তারউদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ। জনসাধারণের মাঝে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনার জন্য আমাদের দেশে সরকারি ও বেসকারি পর্যায়ে দিবস ভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োগের উদাহারণ দৃশ্যায়ণ হলেও এনজিও কার্যক্রম বৈদেশিক অর্থ নির্ভর হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর ইস্যুতে কতিপয় এনজিও কর্তৃকআইন প্রয়োগে অনীহার দৃষ্টান্তও পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তথ্য অধিকার আইনের আওতায় বর্হিভূত থাকতে চাওয়ার মানসিকতাও তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের পথের অন্তরায়।

আইনে তথ্য কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে ১২ ধারায় সে অনুযায়ি তথ্য কমিশন মোট ৩ (তিন) জন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত অর্থ্যাৎ একজন প্রধান তথ্য কমিশন এবং দুই জন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রধান তথ্য কমিশনার প্রধান নির্বাহী। তথ্য কমিশন প্রায় বা আধা-বিচারিক ক্ষমতার অধিকারী এবং কমিশন তার প্রায় বা আধা-বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনাকালে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতারঅধিকারী। কিন্তু কমিশনের বর্তমান এবং অতীতেরপ্রায় সকল কমিশনার কেউই আইন অঙ্গনে পচারণ করেনি বা আইনি কার্যক্রমে তাদের অভিজ্ঞতা নেই বা ছিল না। অধিকাংশ কমিশনারগণ হয় সরকারের সাবেক আমলা না হয় কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ব্যতীত অন্যকোন বিভাগের শিক্ষকতা করেন বা করেছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কমিশনের সদস্যগণ আইনের সঠিক ব্যাখ্যা করতে না পারায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে তথ্য না পেয়ে যখন কেউ অভিযোগ নিয়ে কমিশনে আসেন তখন কমিশনগণের ’জুরিসপ্রুডেন্সিইয়াল নলেজ’ এর অভাব হেতু সঠিক প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলশ্রুতিতে একজন ভুক্তোভোগী ক্লান্তি ও হতাশা নিয়ে অধিকন্তু প্রতিকারের অর্থ্যাৎ কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দারস্থ হতেও আস্থা হারাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতে রাষ্ট্রের উচিৎ কমিশনে অন্তত দুইজন সদস্য আইনসম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এবং অভিজ্ঞতা আছে এমন কাউকে নিয়োগ করা যাতে করে আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সহজ হয়।

আইনের ১০ ধারায় প্রত্যেক সরকারি/বেসরকারি অফিসে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য অধিকার কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হলেও আজ অবধি অনেক অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তাকে হারিকেন লাগিয়ে খুঁজলেও পাওয়া না ফলে একজন আবেদনকারী তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছেন। আবার যখন কেউ পোস্ট অফিসে না গিয়ে ই-মেইলে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করেন তখনও দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ই-মেইলে তথ্য প্রদান করছেন না। অধিকন্তু কমিশনের ওয়েবসাইডে তথ্য প্রাপ্তির নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কম এবং পদ্ধতিগত জটিলতায় মানুষের আগ্রহও কম। এই আইনের ৮ ধারা অনুসারে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট ফরমে সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষের নিকট তথ্য চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। আইনের বিধিমালা ২০০৯ এর বিধি ৩ তথ্য প্রাপ্তির আবেদন পত্র প্রাপ্তির পর দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা উপর প্রাপ্তি স্বীকারের জন্য আবেদনকারীর সাথে ডাকযোগে, ফোন বা মোবাইলে অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করার বাধ্যবাধ্যকতা আরোপ করেছে। কিন্তু প্রায়ই এই বাধ্যবাধকতার ব্যতয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা যোগাযোগ করেন না এবং আবেদনকারী যোগাযোগ করলেও তার সঠিক জবাব প্রদান করেন না। আইনের ধারা ৯ এবং উক্ত আইনের বিধিমালার বিধি ৪ অনুসারে দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ২০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তথ্য প্রদানকরবেন কিন্তু যদি তথ্য প্রদানের সাথে যদি এক বা একাধিক ইউনিট বা কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকে তাহলে অনুরোধকৃত তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে অনুরোধকারীকে সরবরাহ করবেন। আবার তথ্য কর্মকর্তা তথ্য প্রদানে অপারগ হলে ১০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তার অপারগতা সম্পর্কে জানাবেন। বাস্তবতা হলো অনেক ক্ষেত্রেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন কারন ছাড়াই তথ্য প্রদানে অযথা বিলম্ব করেন কিংবা আইন বুঝেন না বা জানেন না বলতেও শোনা যায়। উল্লেখ্য যে, ধারা ৭ এর বাধার কারনে সম্পূর্ণ আবেদন বাতিল না করা এবং যতটুকু তথ্য প্রদান করা যায় ততটুকু তথ্য আবেদনকারীকে সরবরাহ করতে বলা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা কর্তৃক কোন তথ্যই প্রদান না করার প্রমাণও পাওয়া যায়।
এই আইনের একটা বিশেষ দিক হলো কোন ইন্দ্রীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কোন অডিও রেকর্ড পদ্ধতিতে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করলে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনকারীকে অডিও রেকর্ডে তথ্য প্রদানে সহয়তা করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো কোন সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত পদ্ধতিতে তথ্য প্রদানে সক্ষম বা আগ্রহী বলে প্রতিয়মান হয় না।
তথ্যের জন্য আবেদনকারী একজন ব্যক্তি তথ্য না পেলে তথ্য অধিকার আইনের ২৪ ধারা এবং উক্ত আইনের বিধিমালার বিধি ৬ অনুসারে নির্দিষ্ট ফরমে আপীল করতে পারেন। সাদা কাগজেও আপীল আবেদন করা যায়। সাধারণত আপীল আবেদন সংশ্লিষ্ট অফিস বা দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা প্রশাসনিক প্রধানের নিকট করতে হয়। আবেদনে তথ্য না পেলে বা তথ্য প্রদানে অপরাগতার সিদ্ধান্তের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপীল আবেদন করতে হয়। আপীলকারী কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি ক্রমে ৩০ দিন পরেও আপীল আবেদন করা যায়। আপীল আবেদন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আপীল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তাকে তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা প্রদান করবেন। আবেদন আপীল কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য না হলে আপীল আবেদন খারিজ করে দিবেন। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আদেনকারীকে তথ্য প্রদান করবেন। এখানে সমস্যা হলো আপীল কর্মকর্তা, দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার মত একই রকমের আচরণ করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আপীল কর্মকর্তা সময়মত সঠিক আচরণ করেন না। আবার ক্ষেত্র বিশেষে যখন তথ্য প্রদানের আদেশ প্রদান করেন তখন আইন অনুযায়ী আদেশ দেন না। দায়িত্ব প্রাপ্ত আপীল কর্মকর্তার ঘন ঘন বদলী এবং অধিক কাজের চাপ, মূল কাজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ও তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে কার্যকরি জ্ঞান না থাকায় আপীলেও তথ্য না পাওয়ার অন্যতম কারন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ আইন বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাকে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করা এবং শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের জন্য পোস্ট সৃষ্টি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা উচিৎ যাতে করে সময়মত আইন অনুসারে সঠিক তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়।
আপীল আবেদনে তথ্য না পেলে এই আইনের ধারা ২৫ অনুসারে একজন ব্যক্তি তথ্যকমিশনের নিকট নির্দিষ্ট ফরমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আপীল আবেদনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে বা আইনে উল্লিখিত অন্যকোন কারনে পরবর্তী ৩০ দিনে মধ্যে তথ্য কমিশনের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে হয় তবে যুক্তি সংঙ্গত কারনে ৩০ দিন পরেও অভিযোগ দায়ের করা যায়। অভিযোগ দায়ের করার পর কমিশন অভিযোগ অনুসন্ধান বা পর্যালোচনা করে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। কমিশনঅভিযোগের শুনানীর জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে নির্ধারিত দিনে কমিশনে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য অনুরোধ করে থাকেন। ধারা ২৬ অনুসারে উভয় পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে কমিশনে বক্তব্য পেশ করতে পারেন। সাধারণত কমিশনে যারা অভিযোগ করেন তাদের অধিকাংশই নিম্ম আয়ের স্বল্প শিক্ষিত মানুষ যাদের পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ না করে কমিশন থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়াটা দুস্কর। অপরপক্ষে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় তাদের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়ায় অভিযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর বিষয়ে প্রত্যাশিত ফল হতে বঞ্চিত হয়ে থাকে। অধিকাংশ অভিযোগকারী শুধুমাত্র তথ্যের আবেদন,আপীল ও অভিযোগ করার জ্ঞান নিয়ে কমিশনে যখন শুনানীর জন্য হাজির হয় তখন পদ্ধতিগত কিছু ভুল ভ্রান্তি ও সঠিক উপস্থাপনের অভাবে তথ্য প্রাপ্তির অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন।এই সমস্যা সমাধনের জন্য তথ্য প্রত্যাশি অভিযোগকারী ব্যক্তিকে বিনামূল্যে কমিশন হতে আইনী সহয়তা প্রদান করা হলে মানুষ তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগে উৎসাহী হবেন। যদিও কিছু কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষেত্র বিশেষে আইনী সহয়তা প্রদান করে থাকেন যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং সন্তোষজনক নয়।

আইনে অভিযোগ পাওয়ার ৪৫ দিন বা ক্ষেত্র বিশেষে ৭৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অবস্থা বিবেচনায় অভিযোগ নিষ্পত্তির ৭৫ দিনের সীমা রেখাকে অতিক্রম করে দেড় বা দুই বছর পর্যন্ত গড়ায়। উল্লেখিত ৭৫ দিন মূলত তথ্য কমিশনের জন্য নির্দেশনামূলক, বাধ্যতামূলক না কারন আইনে ৭৫ দিনে নিষ্পত্তি না হলে কি হবে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। শুনানী অন্তে কমিশনের সিদ্ধান্ত সকল পক্ষের উপরে বাধ্যকর বলা হলেও আইনে কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ বা রিভিশন এর সুযোগ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কমিশন কর্তৃক ভুলের কারনে অনেকেই কাঙ্খিত তথ্য প্রাপ্তির অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে কেউ অসন্তুষ্ট হলে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা যায়।
আইনের ধারা ২৭ এর বলে কমিশন যদি অভিযোগ নিস্পত্তি সূত্রে যদি মনে করেন (ক) দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন যুক্তি ছাড়াই তথ্য প্রাপ্তির আবেদন বা আপীল গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে;(খ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দিতে বা সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হয়েছে; (গ) অসৎ উদ্দেশ্যে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন বা আপীল প্রত্যাখান করেছে; (ঘ) ভুল, অসম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত তথ্য প্রদান করেছে; অথবা (ঙ) তথ্য প্রাপ্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তাহলে কমিশন উপরোক্ত কর্মকান্ড বিবেচনায় দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানের তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারেন তবে জরিমানার অর্থ কোনভাবেই ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকার বেশি হবে না। আইনে আর্থিক দন্ডের বিধান রাখা হলেও দন্ড প্রদানের দৃষ্টান্ত খুবই কম যা আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকে করেছে দীর্ঘায়িত। আইন বাস্তবায়নে কমিশনের দৃঢ় ভূমিকা প্রত্যাশিত অন্যথায় কমিশনের প্রতিসাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ঘাটতি আসন্ন। সর্বোপরি আইন বাস্তবায়নে সকল পক্ষের যৌথ প্রয়াসই আইনের সর্বোত্তম ব্যবহারকে নিশ্চিত করে। সকলের উচিৎ তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানা এবং এবং নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগ করে সরকাররি ও বেসকারি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

লেখক: শিক্ষানবিশ আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।