নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে হত্যা, ছেলের আমৃত্যু কারাদণ্ড
কারাদণ্ড (প্রতীকী ছবি)

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আদালতের কর্মচারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের সাবেক প্রসেস সার্ভেয়ার (জারিকারক) কাম হিসাবরক্ষক অলক কুমার নন্দীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

খুলনা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি অলক কুমার নন্দী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের পিপি খন্দকার মজিবর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চলমান একটি মামলার রায় পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অলক কুমার নন্দী একজন আসামির স্ত্রীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওই মামলার রায় তার বিপক্ষে গেলে তিনি ওই টাকা ফেরত দাবি করেন। এ নিয়ে তালবাহানা করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ ঘটনায় ২০০০ সালের ৩০ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক পরিদর্শক কে এম মেজবাহ উদ্দিন বাদি হয়ে অলক কুমার নন্দীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে দুদকের পরিদর্শক সুভাষ চন্দ্র দত্ত ২০০৪ সালে আদালতে মামলার চার্জশিট প্রদান করেন।

আরও পড়ুনরমজানে হাইকোর্টের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

আদালতের সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগীয় জজ আদালতে মো. জহুর ই আলমের বিরুদ্ধে স্পেশাল ৪০/৯১ নম্বর মামলা বিচারাধীন ছিল। মামলার আসামির স্ত্রী হাসিনা আলম খোঁজখবর নিতে আদালতে আসেন। তখন ওই আদালতের হিসাব সহকারী ও কাম ক্যাশিয়ার অলোক কুমার নন্দী আসামি জহুর ই আলমকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে খালাস করিয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দেন।

১৯৯৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অলোক কুমার নন্দীকে দেড় লাখ টাকা সিঅ্যান্ডবি কলোনির সামনে প্রদান করা হবে বলে হাসিনা আলম আশ্বাস দেন। কিন্তু ওই দিন তিনি কোনো টাকা তাঁকে পরিশোধ করেননি এবং তাঁর সঙ্গে দেখাও করেননি। পরে একই বছরের ১৪ মে অলোক কুমার নন্দী মাগুরায় হাসিনা আলমের বাড়িতে যান এবং প্রতারণার আশ্রয় নেন।

এরপর জানানো হয়, দেড় লাখ টাকা না দেওয়ায় আদালতের বিচারক আসামি জহুর ই আলমকে বিচারে সাজা প্রদান করেছেন। হাসিনা আলম তখন নন্দীকে জিজ্ঞাসা করেন, করণীয় কী আছে। উত্তরে নন্দী জানান, দেড় লাখ টাকা প্রদান করলে মামলার যাবতীয় নথি পুড়িয়ে দেবেন।

১৯৯৪ সালের ২৫ মে আসামির স্ত্রী হাসিনা আলম নন্দীকে টাকা প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে জহুর ই আলমের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের সাজাসংক্রান্ত চিঠি পেয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তী সময়ে জহুর ই আলমের স্ত্রী হাসিনা আলম অলোক কুমার নন্দীর কাছে টাকা ফেরত চান। অলোক কুমার নন্দী বিভিন্ন সময়ে হাসিনা আলমকে ২৩ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং আর কোনো টাকা দিতে পারবেন না বলে তাঁকে জানানো হয়।

এ ঘটনায় হাসিনা আলম খুলনা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে ১৯৯৯ সালের ১৭ জুন একটি নালিশি দরখাস্ত করেন; যা বিভাগীয় জজ আদালত থেকে একই বছরের ২২ জুন একটি স্মারক খুলনা দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে পাঠান।