চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গণেশকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত গণেশ (১৯) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন সেবক কলোনির বাসিন্দা শরিফ দাশের ছেলে।
র্যাব-৭ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান মামলার চার্জশিট চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেন।
চার্জশিটে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ৩৮ জনকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।
যদিও মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ ছিল, তবে এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের অব্যাহতির আবেদন করেন।
অন্যদিকে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামি গণেশের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন লালদীঘি এলাকার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর গণেশকে কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।
মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম এ আদেশ দিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ রেখেছেন।
শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এ তথ্য দেন।
তিনি বলেন, “বুধবার এ বিষয়ে মহানগর দায়রা জজ আদেশ দিয়েছেন। তিনি নিজের ক্ষমতাবলে কোনো মামলার বিচারিক আদালত নির্ধারণ করতে পারেন। সেভাবেই তিনি মামলাটির নথি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেছেন।
“তবে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন মামলার বাদী ও আইনজীবী আলিফের বাবা। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত কোন আদেশ আসেনি।”
বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন ২০০৩ এর ৮ ধারা অনুসারে কোনো জেলা জজ বা দায়রা জজ শুনানির জন্য প্রস্তুত কোনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন। এ ধারা অনুসারে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
সেদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আলিফের বাবা ও এই মামলার বাদি জামাল উদ্দিন। ওই দিনই জামাল উদ্দিন মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশনা চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

