খুলনা ওয়াসার এমডির দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট
হাইকোর্ট; রিট (প্রতীকী ছবি)

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) হাইকোর্টে জনস্বার্থে এই রিট পিটিশন দায়ের করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। রিট পিটিশন নম্বর ৬৯৪/২০২৬।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে যেসব তথ্য উল্লেখ

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫,৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬,৫১,৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। সরকার অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখনো এর একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা চরম উদ্বেগজনক।

রিটে বলা হয়, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির উদাহরণ

রিটে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ উসমান হাদী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে আসন্ন নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিটে বলা হয়, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ

রিটকারী আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান উল্লেখ করেন, সরকার কিছু সংসদ সদস্য প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

এ অবস্থায় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার, অর্থাৎ জীবনের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল হবে বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিটে কী চাওয়া হয়েছে

রিট পিটিশনে লুণ্ঠিত সকল আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং একটি নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটটি শিগগিরই হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।