বিচারক কামাল এ. কে. এম. কামাল উদ্দিন
বিচারক কামাল এ. কে. এম. কামাল উদ্দিন

জেলা জজ এ.কে.এম কামাল উদ্দিন আর নেই

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আনন্দপাড়া গ্রামের কৃতী সন্তান, সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সিলেটের শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.কে.এম কামাল উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্র ও সহকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে প্রথমে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। পরে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিচারক কামাল উদ্দিন গলাচিপা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ডে মেধা স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ১৯৯৮ ব্যাচে ভর্তি হয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০৮ সালে বিচার বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়। প্রথমদিকে কুমিল্লায় ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (বাজেট) হিসেবে দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিচারকদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে সিলেটের শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকর্মী, আইনজীবী ও বিচার বিভাগের সদস্যদের মতে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, মানবিক, পরিশ্রমী ও ন্যায়পরায়ণ একজন বিচারক।

তার মৃত্যুতে গলাচিপাসহ সারা দেশের বিচার বিভাগ ও আইনাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সহকর্মী, ব্যাচমেট ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তার পেশাগত সততা, ব্যক্তিত্ব, সহমর্মিতা ও বন্ধুসুলভ আচরণের স্মৃতিচারণ করেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও আইনজীবী মহল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।