সংবিধানের একক ক্ষমতার দুর্বলতা দূর করতেই জুলাই সনদ ও গণভোট : অধ্যাপক আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বর্তমান সংবিধানে এক ব্যক্তির কাছে রাষ্ট্র সমর্পণের ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বারবার এই সুযোগ নিয়ে দেশের ক্ষমতা এক ব্যক্তির মর্জির কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের এই দুর্বলতা দূর করতে জুলাই সনদ এবং গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সংবিধানে সুস্পষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ক্ষমতার ওপর একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে দেশ বেরিয়ে আসতে পারবে।

সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামী ফাউন্ডেশন আয়োজিত গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বারো শতাধিক ইমাম উপস্থিত ছিলেন।

এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানের অধীনে যে কোনো ব্যক্তি, যিনি অধঃস্তন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন, তাকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারেন। আদতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা হলেও তা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। জুলাই সনদে একটি কমিটি করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি ছাড়া কেউ ক্ষমা পাবেন না। এই বিধান বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সম্মতিতে গণভোট অপরিহার্য।

আরও পড়ুন : বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনী পদযাত্রা ২৭ জানুয়ারি

নির্বাচন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেন। তবে নির্বাচনের বাস্তবতায় দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর একক ইচ্ছায় কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য ভয়াবহ অনিয়ম এবং দলীয় নেতাদের দ্বারা আজীবনের প্রধানমন্ত্রী করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রুখতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার। জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা থাকবে না। পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে সনদ বাস্তবায়ন করবে। দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা শেষে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সঙ্গে সামাজিক চুক্তি হিসেবে জুলাই সনদ গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটে জনগণ সম্মতি দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ, মহান আল্লাহর ওপর আস্থা বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার বিষয়ে কোনো পরিবর্তন হবে না। জুলাই সনদে রাষ্ট্র ব্যবস্থার ৮৪টি বিষয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে, যা কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সংবিধানবিরোধী নয়।

সভায় বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, শতকরা ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে টুপি-দাড়িওয়ালা মানুষদের দীর্ঘদিন সন্দেহের চোখে দেখা হতো। গণভোটের মূল প্রশ্ন হলো শহিদদের রক্তের সাথে বেইমানি করা হবে কি না। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে দেশ আবার সঠিক পথে অগ্রসর হবে।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মুশফেকুর রহমান, সিলেটের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান, জাতীয় ইমাম সমিতির সিলেট মহানগরের সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব এবং সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন।