শোষিত, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারি আইনি সেবার গুণগত মান উন্নয়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, আইনি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আদালতের সহায়ক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা সেবা: মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, পাবনার উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মো. আখতারুজ্জামান, চেয়ারম্যান, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, পাবনা এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন জেলা আদালতের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ, পারিবারিক আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ, শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলমগীর কবীর শিপন, ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. সুরুজ সরকার, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
সেমিনারের সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) মো. আজহারুল ইসলাম। তিনি পাবনা জেলায় সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
সেমিনারে বক্তারা সরকারি আইনি সহায়তার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে এর মানোন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার রক্ষায় লিগ্যাল এইড একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হলেও এর সুফল শতভাগ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সেবার আধুনিকায়ন অপরিহার্য।
এ লক্ষ্যে আদালতের সহায়ক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত মামলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা
ডিজিটালাইজেশন: আইনি সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং মামলার অগ্রগতি দ্রুত জানাতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রচার ও সচেতনতা: তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি আইনি সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
আইনজীবীদের ভূমিকা: লিগ্যাল এইড প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবার মান নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি আইনি সহায়তার পরিধি বিস্তারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান বলেন, “বিচার পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। অর্থের অভাবে কেউ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সহায়তা দেওয়া নয়, বরং সেই সহায়তা যেন মানসম্মত ও ফলপ্রসূ হয় তা নিশ্চিত করা।”
সেমিনারে জেলা জজ আদালত ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, পাবনার সহায়ক কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দসহ বিভিন্ন আদালতের জিআরওরা অংশগ্রহণ করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

