ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালত প্রাঙ্গণে বোমা হামলার হুমকিসংবলিত দুটি চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় আদালত এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চিরকুটে লেখা ছিল, “আদালত এখন বন্ধ হবে, আবার জানুয়ারিতে খুলা হবে। আর যদি খুলা হয় তাহলে বম মারা হবে।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে আদালতের জজের কক্ষে প্রবেশপথের দেয়ালে সাঁটানো অবস্থায় একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
একই ধরনের আরেকটি চিরকুট আদালতের আইনজীবী এ এস এম মেহেদী হাসানের কক্ষ থেকেও উদ্ধার করা হয়।
চিরকুট দুটি নজরে আসার পর বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের নাজির রবিউল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরে ঈশ্বরগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও সন্ধ্যায় আরেকটি জিডি দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন : লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে : কক্সবাজারের জেলা জজ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিচারপ্রার্থী জানান, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। সিসিটিভি থাকলে চিরকুট সাঁটানো ব্যক্তিকে সহজেই শনাক্ত করা যেত। একই ধরনের দুটি চিরকুট পাওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল বলে তারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি এ এস এম সারোয়ার জাহান বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের হুমকিসূচক চিরকুট পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এতে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, আদালত প্রাঙ্গণ ও এক আইনজীবীর কক্ষ থেকে পাওয়া হুমকিসূচক চিরকুটের ঘটনায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি নিজে আদালত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। চিরকুটের হাতের লেখা দেখে ধারণা করা হচ্ছে এটি আনকোরা হাতের লেখা। পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জিডির তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার থানা রোডের দত্তপাড়া এলাকায় ১৯৮০ সালে ঈশ্বরগঞ্জ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটি ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে রূপান্তর করা হয়। এই আদালত থেকে ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল ও গৌরীপুর উপজেলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।

