সাবেক জেলা জজ ও ডিসির বিরুদ্ধে কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ দুর্নীতির মামলার শুনানি চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে
আদালত ভবন, চট্টগ্রাম

থানা ভাঙচুরের সময় কারাগারে থাকা আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন, পুলিশ কর্মকর্তাকে শোকজ

ঘটনার সময় আসামি কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তাকে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় জড়িত দেখিয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার কাছে কারণ দর্শাতে (শোকজ) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে আসামির কারাগারে থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি বাতিল করেন।

গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদ সাত্তার এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, নুর হোসেন নামের এক আসামি গত বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে নগরের আকবর শাহ থানার একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এ অবস্থায় পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুজ্জামান খান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পাহাড়তলী থানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় নুর হোসেনকে জড়িত সন্দেহে চলতি মাসের ২২ জানুয়ারি আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

এ বিষয়ে গত সোমবার শুনানির দিন ধার্য থাকলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতের নজরে আনেন যে, যে ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, সেই সময় নুর হোসেন কারাগারে ছিলেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন তলব করেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে পরবর্তী শুনানিতে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : ফরিদপুরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক

পরদিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শাহ শরীফ আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে জানান, নুর হোসেন নামের ওই বন্দী ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সীতাকুণ্ড থানার একটি মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। পরবর্তীতে ২২ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি আকবর শাহ থানার আরেকটি মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আসেন।

কারা কর্তৃপক্ষের এই প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপনের পর বিচারক গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি বাতিল করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করে আবেদন করায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার কাছে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী নয়ন মণি দাস বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে যে, আসামি যে ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, সে সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। এ কারণে আদালত আবেদন বাতিল করেছেন এবং আবেদনকারী কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক আরিফুজ্জামান খান বলেন, তাড়াহুড়ো করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন, বিষয়টি তখন জানা ছিল না। আদালত যেহেতু কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছেন, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে।

আইনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘটনার সময় আসামির কারাগারে থাকার বিষয়টি উপেক্ষা করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তোলে। এ ধরনের ঘটনায় আদালতের কঠোর অবস্থান আইনগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।