বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বিচারপতি নাইমা হায়দার গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজ স্বাক্ষরযুক্ত চিঠির মাধ্যমে তার পদ থেকে পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে তার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অনিয়ম এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে বিচারপতি নাইমা হায়দারসহ হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। বিচারপতি নাইমা হায়দারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বর্তমানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত চলমান অবস্থাতেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
এর আগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতিকে অপসারণ করেন।
আরও পড়ুন : সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নৈশকালীন অথবা বি-গ্রেড পোস্ট অফিস স্থাপনের দাবি
চব্বিশের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্ট বিভাগের মোট ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৯ জন বিচারপতি আর দায়িত্বে নেই। এদের কেউ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত শেষে বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন, কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এবং কেউ অবসরে চলে গেছেন। বাকি তিনজন বিচারপতি পদে বহাল থাকলেও তারা বর্তমানে কোনো বেঞ্চে বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন না।
এ ছাড়া চলতি মাসে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ দাখিল হওয়ায় বিচারপতি এম আর হাসানকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছুটিতে পাঠানো মোট ১৩ জন বিচারপতির বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের আরও দুইজন বিচারপতি স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের একজন বিচারপতি মামনুন রহমান, যিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
বিচারপতি নাইমা হায়দার সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর কন্যা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কেল বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮৯ সালে জেলা আদালতে আইন পেশায় যুক্ত হন নাইমা হায়দার। ১৯৯৩ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৯ সালের ৬ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১১ সালের ৬ জুন স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

