মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী : আট কোটি ২২ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস ইয়াবা পাচারের মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন (৩০ বছর সশ্রম) কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম, জেলা ও দায়রা জজ, কক্সবাজার এ রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম।
দণ্ডিত আসামি হলেন—কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আওলিয়াবাদ এলাকার মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত চাঁদ মিয়া ও মৃত মোস্তফা খাতুনের ছেলে মো. হাসান (৫৫)।
একই মামলায় অভিযুক্ত মো. মাহফুজ মিয়াকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট হরিসাধন পাল মামলাটি পরিচালনা করেন।
মামলার বিবরণ
২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আওলিয়াবাদ এলাকার মাস্টারপাড়া গ্রামে মো. হাসানের বসতঘরে অভিযান চালায়।
এ সময় তার শয়নকক্ষের মাটির নিচ থেকে ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ২২ লাখ টাকা।
ঘটনায় গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. হাসান ও আবুল কাশেমকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ঈদগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন (থানা মামলা নং–০১, তারিখ: ০৭/০২/২০২২; জিআর নং–০৯/২০২৩; এসটি নং–৭৭৩/২০২৩)।
তদন্ত চলাকালে আসামি আবুল কাশেম মারা যান। পরবর্তীতে তদন্তে মো. মাহফুজ মিয়া ও মো. হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
বিচার ও রায়
২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আলামত উপস্থাপন, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন।
রায়ে বিচারক ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ১০(গ) সারণি অনুযায়ী মো. হাসানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন (৩০ বছর সশ্রম) কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. মাহফুজ মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী দেলোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন।

