পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধে সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ
আইনি নোটিশ

ভূমি জালিয়াতি বন্ধে বাধ্যতামূলক ‘রিয়েল এস্টেট এজেন্ট’ চালুর দাবিতে আইনি নোটিশ

দেশের সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী ভয়াবহ ভূমি জালিয়াতির স্থায়ী অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশ প্রেরণ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

আইনি নোটিশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তর-এর মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের আদালতগুলোতে চলমান দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার একটি বিশাল অংশ সরাসরি ভূমি বা জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে। এসব অন্তহীন মামলার জটে পড়ে লাখ লাখ বিচারপ্রার্থী নাগরিক যুগের পর যুগ ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন। বিশেষ করে সাধারণ ও নির্দোষ ক্রেতারা জাল দলিল, অমীমাংসিত উত্তরাধিকার থাকা সম্পত্তি, একই সম্পত্তি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, ভুয়া হেবা বা দান দলিল এবং গোপন ব্যাংক ঋণের মতো প্রতারণার কারণে ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি ও চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান ব্যবস্থায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো মূলত সম্পত্তি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে। কিন্তু হস্তান্তরিত সম্পত্তির চেইন অব ওনারশিপ বা মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সরেজমিন অবস্থা নিখুঁতভাবে যাচাই করার ক্ষেত্রে তারা আইনত কঠোরভাবে বাধ্য নয়। এই পদ্ধতিগত শূন্যতার সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ও প্রতারক চক্র সাধারণ নাগরিকদের সর্বস্বান্ত করছে।

এ অবস্থাকে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সুরক্ষা এবং সম্পত্তির অধিকারের সরাসরি ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬–এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে রুল জারি হাইকোর্টের

এই সংকট থেকে স্থায়ী উত্তরণের জন্য আইনি নোটিশে সরকার কর্তৃক সব ধরনের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সংবিধিবদ্ধ ও বাধ্যতামূলক সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ‘রিয়েল এস্টেট এজেন্ট’ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। বিক্রয় দলিল, হেবা দলিল, দানপত্রসহ যেকোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, কঠোর ও মানসম্মত পরীক্ষা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। জমি কেনাবেচার সময় সরকার নির্ধারিত ফি বা কমিশনের বিনিময়ে রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা পক্ষগণের পক্ষে কাজ করবেন। কোনো জমি কেনাবেচার পূর্বে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল যাচাই, মালিকানার ধারাবাহিকতা পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণ করতে এজেন্টদের আইনত বাধ্য থাকতে হবে।

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দলিলে সংশ্লিষ্ট রিয়েল এস্টেট এজেন্টের নাম ও সরকার প্রদত্ত লাইসেন্স নম্বর বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়েছে। কোনো অবহেলা, অবৈধ কাজ, জালিয়াতি বা যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা মামলা হলে ওই রিয়েল এস্টেট এজেন্টকেও মামলার আবশ্যকীয় পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়, যাতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার আইনগত দায়ভার এজেন্টদের বহন করতে হয়।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এই বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু হলে একদিকে যেমন নাগরিকদের সম্পত্তির অধিকার কার্যকরভাবে সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে সারা দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকের জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত, পেশাদার এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের নতুন খাত সৃষ্টি হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে সকল সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ‘রিয়েল এস্টেট এজেন্ট’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, নির্বাহী ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নির্দেশিকা ও বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ-এ জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।