জেলা আইনজীবী সমিতি, বরিশাল
জেলা আইনজীবী সমিতি, বরিশাল

সভাপতির মুক্তিসহ তিন দাবিতে বরিশালে আইনজীবীদের সব আদালত বর্জন কর্মসূচি চলছে

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনের মুক্তিসহ তিন দফা দাবিতে বরিশালের সব আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বরিশালের সকল আদালত বর্জনের কর্মসূচি চলছে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি নাজিমউদ্দিন আহমেদ পান্না জানান, বুধবার বরিশাল বারের সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তার অধীনস্ত কর্মচারীকে দিয়ে তাঁকেসহ একাধিক সিনিয়র আইনজীবীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পান্না বলেন, বুধবার দুইটি আদালত বর্জন করা হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার থেকে বরিশালের সকল আদালত বর্জনের কর্মসূচি চলছে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, তাদের তিনটি স্পষ্ট দাবি রয়েছে। প্রথমত, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দরখাস্ত দিতে হবে। তৃতীয়ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কগনিজেন্স না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

আরও পড়ুন : প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগে মামলাজট নিরসনে বড় অগ্রগতি

তিনি বলেন, আপাতত আদালত বর্জন কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগও চলছে। আমরা চাই বিষয়টি ভালোভাবে নিষ্পত্তি হোক, বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক অটুট থাকুক। তিনি আরও বলেন, অতীতে হাইকোর্টের দরজাও ভাঙচুর হয়েছিল, তাতে কারও কিছু হয়নি। এখানে যা ঘটেছে তা আমাদের কারণে নয়, সংশ্লিষ্টদের গাফেলতির ফল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আজ যদি কোনো সমাধান না আসে, তাহলে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা হবে এবং সেখান থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনজীবীরাই যদি বিচার না পান, আদালত প্রাঙ্গন থেকেই যদি তাদের ধরে নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ থাকবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় নিয়োগ পাওয়া বিচারকরা ফ্যাসিবাদকে জামিন দিয়েছেন। এর প্রতিবাদ করায় বারের সভাপতিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আদালত প্রাঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ গ্রেপ্তারের কোনো বিধান নেই। অথচ সভাপতিকে তার কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জন চলবে।

তিনি আরও বলেন, মামলার আসামি হিসেবে ফ্যাসিবাদের আদালত থেকে জামিন নেওয়া হবে না। আমরাও ভিতরে থাকতে চাই।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত সোমবার বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে জামিন দেন একটি আদালত। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জন করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভ শেষে দুপুরে আদালতের এজলাসে হট্টগোল ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ্‌ এজলাস ছেড়ে চলে যান। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এর পরদিন বুধবার দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।