আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বয়োবৃদ্ধ বাবা
চট্টগ্রাম আদালত

জাল দলিলে নামজারির অভিযোগ, এসিল্যান্ডসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জাল দলিল তৈরি করে পৈতৃক ও কেনা সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ বিচারক সাখাওয়াত হোসেনের আদালতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মামলাটি দায়ের করেন গিয়াস উদ্দীন খাঁন।

আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খাঁন জানান, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৫০৬ (২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা

মামলার বিবাদীরা হলেন- নওশাদুল ইসলাম খাঁন, মোছাম্মৎ সৈয়দা নুসরাত জাহান চৌধুরী, জেরিন ইসলাম খানম, তাসনিম ইসলাম খানম, আকিবুল ইসলাম খান, রিয়াজুল ইসলাম খান, মহিউদ্দীন শাহ, মুজাফফর আহাম্মদ খাঁন, তাপস দেওয়ানী, মোহাম্মদ শের আলী শাহ, দিদারুল ইসলাম খাঁন ও দিলীপ চৌধুরী।

এছাড়া হাটহাজারী উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ উল্যাহ, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা জুলকার নাঈম, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কাজী আশরাফ উদ্দীন এবং উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো এম এ সাত্তার খানকেও মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৯৯৯ সালের ১০ অক্টোবর “নির্দ্দায় ছাফ বিক্রয় কবলা পত্র” শিরোনামে একটি দলিল সৃজন করেন। ওই দলিলে গিয়াস উদ্দীন খাঁনের মৃত চাচা ফোরক আহাম্মদ খান ও বাবা ফরিদ আহম্মদ খানকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর ও টিপসই ব্যবহার করা হয়। অথচ ফোরক আহাম্মদ খান ১৯৯২ সালে এবং ফরিদ আহম্মদ খান ১৯৮৭ সালে মারা যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ভুয়া দলিল ব্যবহার করে আসামিরা হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দলিলের সত্যতা যাচাই না করে এবং অভিযোগকারীকে কোনো নোটিশ না দিয়েই ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট নামজারি খতিয়ান তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গিয়াস উদ্দীন খাঁন আসামিদের বসতঘরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।