নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি ছাড়া পরিচালিত ২০টি শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহাম্মেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিভিন্ন শিল্পকারখানা ইটিপি ছাড়া পরিচালনা করে নদীর পানি দূষণ করছে উল্লেখ করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৬ মে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন।
সেই সঙ্গে দূষণকারী শিল্পকারখানাগুলো শনাক্ত করে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন এবং দূষণের ফলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ২০টি প্রতিষ্ঠান ইটিপি ছাড়াই তাদের শিল্পকারখানা পরিচালনা করছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আরএসকে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিট ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এমআর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লা নিট ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং ও হাজি রাসূল ডাইংসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে সম্পূরক আবেদন করা হয়। এতে ইটিপি ছাড়া পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
শুনানি শেষে আদালত বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ৩০ এপ্রিল আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

