সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক (ফাইল ছবি)

রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন

রায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলাসহ পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক-কে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট

রোববার (2৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেন-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক চারটি মামলায় তাঁর জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ৪ মার্চ পৃথক চার মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। সেদিন আদালত রায়ের জন্য ৭ মার্চ দিন ধার্য করেন।

সে অনুযায়ী আজ বেলা দুইটার দিকে আদালতের কার্যতালিকায় ২০ থেকে ২৩ নম্বর ক্রমিকে চারটি আবেদন ওঠে। পরে বেলা ২টা ৫ মিনিটে আদালত রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে জামিন মঞ্জুর করেন।

রায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) করা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে গত বছরের ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন।

রুলে জানতে চাওয়া হয়, এসব মামলায় কেন তাকে জামিন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি মামলার জামিন আবেদন আজ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে।

অন্যদিকে দুদকের করা একটি মামলায় তাঁর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল এখনো হাইকোর্টের অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

খায়রুল হকের অন্যতম আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, ওই মামলায় আগামী ১১ মার্চ শুনানি হতে পারে।

আরও পড়ুন : সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ৬ সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেনসাঈদ আহমেদ রাজা। রায় ঘোষণার সময় তাঁর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাতার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেনমো. জহিরুল ইসলাম সুমন। রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন বলেন, চার মামলায় হাইকোর্ট খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সিদ্ধান্ত নেবেন।

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ-এ করা একটি মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি আরেকটি মামলা করেন।

এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্ট মাসে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।