দেশের বিচার বিভাগে রয়েছে নারীদের দৃপ্ত পদচারণা। সর্বোচ্চ আদালতে ১০৮ জন বিচারপতির মধ্যে ১২ জন নারী বিচারপতির অগ্রযাত্রা নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়েছে। ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ আসনে এখন দায়িত্ব পালন করছেন ১২ জন নারী বিচারপতি। উচ্চ আদালতের ইতিহাসে সংখ্যার দিক দিয়ে এটাই সর্বোচ্চ। তারা প্রত্যেকেই দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থায় নারীর শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছেন।
আইন অঙ্গনে তাদের এই উপস্থিতি শুধু বিচারব্যবস্থাকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিচারকার্যের মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করছেন তারা। সবাই স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে রায় দিয়ে দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন তারা। সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিও হবেন নারী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধস্তন আদালতের তুলনায় উচ্চ আদালতে নারী বিচারপতির সংখ্যা কম। উচ্চ আদালতে আরও নারী বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, দেশের অধস্তন আদালতে ২১৭৯ বিচারকের মধ্যে ৬২৫ জন নারী। এটা খুবই বড় সংখ্যা। আমরা যখন প্রথম বিচার বিভাগে ঢুকেছিলাম তখন তিন নারী বিচারক ছিলাম। এখন তো অধস্তন আদালতে তিন ভাগের এক ভাগ নারী বিচারক। এছাড়া প্রতি বছর জুডিশিয়াল সার্ভিসের সব পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম দিকে নারীরাই থাকেন। আশা করি অধস্তন আদালতের ঢেউ উচ্চ আদালতেও লাগবে।
তিনি আরো বলেন, উচ্চ আদালতে নিয়োগ দেওয়ার মতো অনেক নারী বিচারক রয়েছেন। আবার আইনজীবীদের মধ্যেও অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন নারী আছেন। সেখান থেকেও উচ্চ আদালতে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। আমি সরকারের কাছে দাবি করব, উচ্চ আদালতে যেন নারী বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নারী প্রধান বিচারপতি পাবে—এটা আশা করতেই পারি।
উচ্চ আদালতের ১২ নারী বিচারপতি
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব :
আপিল বিভাগের একমাত্র নারী বিচারপতি তিনি। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাসের পর ১৯৯২ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টে এবং ২০০২ সালের ১৫ মে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০০৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে পূর্ণাঙ্গ বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। গত বছরের ২৪ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
তার আরও একটি পরিচয়—তিনি সাবেক মন্ত্রী প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমানের মেয়ে। হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন আজিমপুর কবরস্থান রক্ষার রায়, ধর্ষণের শিকার নারীদের দ্রুত মামলা নেওয়ার বিষয়ে নীতিমালা করে রায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকার রক্ষার রায়, অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনায় শিশু জিহাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের রায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যানেল শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণের রায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা বাধ্যতামূলকের রায়, পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণার রায়সহ অসংখ্য আলোচিত রায় দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।
বিচারপতি ফাতেমা নজীব :
নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ বেগম ফাতেমা নজীব ২০১৮ সালের ৩০ মে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালের ৮ জুন তাকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১৯৮৪ সালে মুন্সেফ হিসেবে বিচার বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া হংকং, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, সৌদি আরব ও শ্রীলঙ্কাসহ বেশকিছু দেশ ভ্রমণ করেছেন।
বিচারপতি কাজী জিনাত হক :
একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসৈনিক ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শরীফা খাতুনের কনিষ্ঠ কন্যা বিচারপতি কাজী জিনাত হক। তিনি দুই মেয়াদে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের :
নাটোরের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান ফাহমিদা কাদের কৃতিত্বের সঙ্গে ১৯৮১ সালে ঢাকার অগ্রণী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি নেন। তিনি আইন বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৯৯১ সালের ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে সহকারী জজ (প্রবেশনার) হিসেবে যোগ দেন। বিচারক নিয়োগের ওই পরীক্ষায় তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজ মেধার স্বাক্ষর রাখেন।
সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছর পর ১৯৯৬ সালে প্রথম পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে কুমিল্লার আদালতে যোগ দেন। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে চাঁদপুরে যোগ দেন। ২০০৪ সালে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১৪ সালে সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৫ সালে জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বিভাগীয় স্পেশাল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত টাঙ্গাইলের জেলা জজ ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৩২ বছর সততা ও দক্ষতার সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালন করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালের ৩১ জুলাই তাকে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ উইমেন জাজেস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফাহমিদা কাদেরের স্বামী মকবুল আহসান টিটো ছিলেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ। তিনি এখন অবসরে আছেন। এই দম্পতির তিন সন্তান। তারা পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করছেন। ফাহমিদা কাদের ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সভা ও সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বিচারপতি মুবিনা আসাফ :
মুবিনা আসাফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৯৩ সালে জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি আইন পেশার শুরুতে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালে হাইকোর্টে এবং ২০০৯ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টের প্রধান ছিলেন।
গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিচারপতি নাসরিন আক্তার :
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৯৭ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য, সিনিয়র সহ-সম্পাদক ও ট্রেজারার হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন নাসরিন আক্তার। গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা :
আইনুন নাহার সিদ্দিকার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায়। বাবা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। ২০০০ সালে তিনি জজ কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০২০ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর আইনজীবী হিসেবে উচ্চ আদালতে জনস্বার্থে বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করেছেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিচারপতি তামান্না রহমান :
তামান্না রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে আইন পেশায় যোগদান করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০১৫ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলএলএম ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিচারপতি সাথিকা হোসেন :
সাথিকা হোসেন ১৯৯৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর তাকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিচারপতি জেসমিন আরা বেগম :
২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি হবিগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ইতোপূর্বে তিনি ঢাকা, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ ও সিলেটের জাজশিপসহ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালেও দায়িত্ব পালন করেন।
জেসমিন আরা বেগম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়েও আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাঠগ্রহণ করেন। নিজ জেলা সুনামগঞ্জ বারের প্রথম নারী আইনজীবী তিনি। শহীদ বুদ্ধিজীবী সুনাওর আলীর কন্যা এবং বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের সহধর্মিণী। বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচে তিনি বিচার বিভাগে যোগদান করেন।
বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার :
১৯৯৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৯৭ সালে ইংল্যান্ডের লিংকন’স ইন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৮, ১৯৯৯ এবং ২০২৪ সালে যথাক্রমে জেলা আদালত, হাইকোর্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন।
২০০৮ সালে হেগের পিস প্যালেসে অবস্থিত হেগ একাডেমি অব ইন্টারন্যাশনাল ল’-এ বেসরকারি আন্তর্জাতিক আইনের ওপর একটি কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি যুক্তরাজ্য, দুবাই, থাইল্যান্ড, হংকং, সৌদি আরব, ইরাক, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইডেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, ব্যাংকক ও লন্ডন ভ্রমণ করেছেন।
বিচারপতি উর্মি রহমান :
১৯৭৯ সালের ১৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০১ এবং ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে যথাক্রমে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০০৭ সালে নিউক্যাসলের নর্দামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (বার ভোকেশনাল কোর্স) সম্পন্ন করেন। একই বছর ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করেন।
২০০৩ সালের ৫ আগস্ট আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন। ২০০৮ সালের ১২ মে হাইকোর্ট বিভাগে অনুশীলনের অনুমতি পান এবং ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
তিনি অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, মিশর, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, নেপাল, সিঙ্গাপুর, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও উজবেকিস্তান ভ্রমণ করেছেন।

