সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য দেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু
সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য দেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু

তিন আদালত বর্জন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইল যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি

তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার সংবাদ সম্মেলন করেছে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির ১ নম্বর ভবনের সেমিনার কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের আদালত বর্জন করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তার অভিযোগ, বিচারক আইনজীবীদের বাদ রেখে বাদী ও আসামিপক্ষের স্বজনদের উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন এবং এজন্য বাড়তি পুলিশ ব্যবহার করা হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, আইরিন পারভীন আইনজীবীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন, যা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। তিনি এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একইসঙ্গে বলেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজকে সরিয়ে অন্য যেকোনো বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হলে আইনজীবীরা আবার এজলাসে ফিরে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী দেবাশীষ দাস, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর, সাবেক সভাপতি এম. ইদ্রিস আলী, শরীফ নুর মোহাম্মদ আলী রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বাচ্চু এবং সিনিয়র আইনজীবী মঈনুল হক খান ময়নাসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের ওপর তাদের কোনো ক্ষোভ নেই। তবে তিনি আইন-কানুন যথাযথভাবে জানেন না এবং জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অযোগ্য—এমন অভিযোগও করেন তিনি। এসব বিষয়ে আইনজীবীরা সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং অনাস্থা প্রকাশ করে আদালত মুলতবিও ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছিল। বৈঠকে তিনি কথা দিয়েছিলেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতাও হয়েছিল। কিন্তু এরপর তার আচরণ আরও খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আইনজীবীরা।

আরও পড়ুন : যশোরে তিন আদালত বর্জন, বিচারকের অযোগ্যতার অভিযোগে আইনজীবীদের প্রতিবাদ

শেষ পর্যন্ত গত বুধবার দুপুরে জরুরি সভা করে সর্বসম্মতিক্রমে তার দুটি আদালত এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকেই আইরিন পারভীন আইনজীবী ছাড়াই বিচারকার্য পরিচালনা শুরু করেছেন বলে দাবি করেন আইনজীবীরা। এতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ওই আদালতে অন্য কোনো বিচারক দায়িত্ব পেলে তারা সঙ্গে সঙ্গে আদালতে ফিরে যাবেন। কিন্তু যশোরের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং আইনজীবীদের প্রতিপক্ষ ভেবে বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদও একইভাবে ইচ্ছামতো কাজ শুরু করেছেন। বারের সঙ্গে সমন্বয় না করেই আদালতের এজলাস শুরুর সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সার্বিক বিষয় তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান তিনি। একইসঙ্গে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি।

উল্লেখ্য, যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম গত বছরের ২৮ আগস্ট বদলি হন। এরপর তিন মাস পর ৫ নভেম্বর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে মোহাম্মদ আলী যোগদান করেন।

তবে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলী বদলি হলে জেলা ও দায়রা জজ পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরপর থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের মাধ্যমে জেলা জজ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল, যা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই ক্ষোভ দেখা দেয়।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এমএম মোর্শেদ কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি সম্প্রতি ঢাকায় বদলি হন। পরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।

এরই মধ্যে গত বুধবার আইনজীবীরা তিনটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।