ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সাবেক স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমিরউদ্দিন সরকার-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় সংসদ যেন কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দেশের সামগ্রিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়, সে লক্ষ্যে আমার দায়িত্ব থাকবে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে ফুলের তোড়া ও সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেন, তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন। জবাবে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের কাছে দোয়া চেয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন এই মহান জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রধান নিয়ামক হয়। বাংলাদেশের বর্তমান ও আগামীর রাজনীতি যেন এই সংসদকে ঘিরে আবর্তিত হয়।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর এই তিনটা সংসদ তথাকথিত সংসদ ছিল। আর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট রেজিমের ক্ষমতা নবায়নের জন্য নামমাত্র নির্বাচন করা হয়। নির্বাচন কমিশন ক্ষমতা নবায়নের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিল। পার্লামেন্ট রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সত্যিকার অর্থে যে পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি, সেটা বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৭ বা ১৮ বছর দেখেনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নিরপেক্ষভাবে সরকারি দল ও বিরোধীদল-সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে আবারও সে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা এবং একটি কার্যকর সংসদ যেন আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি সেই প্রচেষ্টা থাকবে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আমার দায়িত্ব থাকবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। সবার আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা।
এ ছাড়া ডেপুটি স্পিকার সংসদে গণতন্ত্র ফিরে আসায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম-খুন হয়েছেন, সর্বশেষ ছাত্র আন্দোলনে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।

