সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান (এমআর হাসান) পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি তার পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত চলছিল। ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর বনানী ইউলুপে ট্রাফিক সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জন হাজমকে গাড়ি চাপা দিয়েছিলেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে।
সে সময় এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পরও মামলা নেয়নি পুলিশ। অভিযোগ ছিল বিচারপতির প্রভাব খাটিয়ে সে সময় থানা পুলিশকে ফোন করে ছেলেকে আসামি না করতে চাপ দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেন।
বিচারপতি এমআর হাসান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকাকালীন কোম্পানি বেঞ্চের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে প্রধান বিচারপতির কাছে। অভিযোগ আছে একাধিক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে রায় পাল্টে দিতেন।
ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে এই আবেদন করেন। আবেদনে অভিযোগগুলো তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংবিধান অনুযায়ী যেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। একটি মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রায়ে তার নামে কাল্পনিক যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়। অন্য একটি মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে কোনো প্রকার পক্ষ না করেই তাঁর মালিকানাধীন ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে আবেদনকারী দাবি করেছেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের যে সমস্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত শুরু হয় তারমধ্যে এমআর হাসান অন্যতম। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রাথমিকভাবে তার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। তার প্রেক্ষিতেই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেন।

