আইন ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন বাংলাদেশ ল অ্যালায়েন্স মানবাধিকার কর্মী মোসফিকুর রহমান জোহান এবং তাঁর সহকর্মীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ল অ্যালায়েন্সের সাধারণ সম্পাদক মো: ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেবার কথা বলা হয়েছে।
সংগঠনটির নির্বাহী সভাপতি জায়েদ বিন নাসের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার একজন শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার কর্মী মোসফিকুর রহমান জোহান ও তার সহকর্মীরা গতকাল ৩০ মার্চ, ২০২৬ (সোমবার) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কিছু দুষ্কৃতকারীর হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্র সংগঠন (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল)-এর সদস্য বলে অভিযোগ উঠেছে।
অধিকন্তু, ভয়াবহ বিষয়টি হলো, এই হামলাটি বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) মতো একটি সরকারি দপ্তরে সংঘটিত হয়েছে। জোহান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অভিযোগ করেছেন যে, ৩০-৪০ জনের একটি দল একটি সরকারি দপ্তরে তাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও দাবি করেন যে, উক্ত হামলার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি মানবাধিকার কর্মী সম্প্রদায়ের জন্য একটি মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক খবর। এ ধরণের হামলাকে নাগরিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
ল অ্যালায়েন্স বিবৃতিতে আরও জানায়, এটি শুধু মানবাধিকার কর্মীদের জন্যই নয়, বরং ন্যায়সঙ্গত কারণে সোচ্চার হওয়া ব্যক্তিদের জন্যও একটি সরাসরি হুমকি। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এই ইস্যুতে অবিলম্বে পদক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই। বাংলাদেশে যাতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সরকারকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। নাগরিকদের উপর হামলা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
জোহান ও তার সহযোগীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে আরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপরে উল্লিখিত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ দাবি জানায় সংগঠনটি। এই বিষয়টি যাতে উপেক্ষিত না থাকে এবং যথাযথভাবে সমাধান করা হয় এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে বিবৃতিটি প্রেরণ করা হয়।

