প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিসা লাউঞ্জ, অবৈধ বার ও জুয়া বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন

লইয়ার্স ক্লাব ডেস্ক: রাজধানীসহ সারাদেশে মাদকের শ্রেণীভুক্ত ‘সিসা (শিশা)’ লাউঞ্জ, অনুমোদনবিহীন বার ও অভিজাত ক্লাবে মাদক এবং জুয়া কার্যক্রম বন্ধে জরুরি ও কঠোর নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ আবেদন করেন এস এম জুলফিকার আলী জুনু, যিনি ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল-এর চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ঠিকানায় এস এ পরিবহনের মাধ্যমে আবেদনপত্রটি পাঠানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জাতির জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলেও বাস্তবতায় এর কার্যকর প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় অবৈধ সিসা লাউঞ্জের আড়ালে প্রকাশ্যে মাদক সেবন, বেচাকেনা এবং জুয়া কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত মদের বার ও ক্লাবের আড়ালে এসব কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, উচ্চ আদালত ইতোমধ্যে সিসা লাউঞ্জ বন্ধে নির্দেশনা প্রদান করলেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যর্থতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নীরব মাদক মহামারি’ আখ্যা দিয়ে আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তরুণ সমাজ বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রাতের আধারে এসব লাউঞ্জে তরুণ-তরুণীদের আসক্তি বাড়ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • দেশব্যাপী অবৈধ সিসা লাউঞ্জ, মাদক স্পট ও জুয়ার আসর চিহ্নিত করে সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা,
  • উচ্চ আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা,
  • মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ,
  • অনুমোদনবিহীন বার ও ক্লাবে নিয়মিত নজরদারি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা,
  • আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে অবহেলা বা দুর্নীতির অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ,
  • এবং একটি কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স গঠন করে সারাদেশে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা।

আবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে দেশের তরুণ প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে।